Image description

গাইবান্ধার দাড়িয়াপুর অঞ্চলে দিনে অন্তত ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং, ভুতুড়ে বিল এবং গ্রাহক হয়রানির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)।

দলটির দাড়িয়াপুর অঞ্চল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অঞ্চল সভাপতি ডা. জব্বার। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক আহসানুল হাবীব সাঈদ, জেলা সদস্য ও গিদারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম ছাদেক লেবু, গিদারী ইউনিয়নের সংগঠক শাহজালাল তোতা এবং ঘাগোয়া ইউনিয়নের সংগঠক আয়নাল হক প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা প্রতিনিয়ত ভুতুড়ে বিলের বোঝা টানছেন, অথচ এর কোনো প্রতিকার মিলছে না। একদিকে অনিয়মিত লোডশেডিংয়ে জনজীবন ও কৃষি বিপর্যস্ত, অন্যদিকে অফিসের ভেতরে দালালদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।" 

বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে ব্যক্তিমালিকানার হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তারা অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিনামায় বিদ্যুতের মূল্য কমানো, এলাকায় এলাকায় গ্রাহকসেবা কেন্দ্র বাড়ানো, ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া আদায় অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান। দাবি মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এদিকে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "জেলার চাহিদার তুলনায় কেন্দ্রীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ বরাদ্দ কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই আমাদের কিছুটা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বরাদ্দ বাড়লে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর