Image description

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে অসংখ্যবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। এই সংকটের সঙ্গে নতুন আপদ হিসেবে যুক্ত হয়েছে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ। নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলেও মাস শেষে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত বিল, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দিনের অধিকাংশ সময় ও রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনও কয়েক মিনিট, আবার কখনও কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অসহনীয় গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিশেষ করে রাতের বেলা ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুতের এমন অনিয়মিত সরবরাহের কারণে দোকানপাট, ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কম্পিউটারনির্ভর ব্যবসা, ফটোকপি ও মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বারবার বিদ্যুৎ ওঠানামা করায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক গ্রাহক ইতোমধ্যে টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, আইপিএস ও অন্যান্য মূল্যবান ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি ‘ভুতুড়ে বিল’ এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, অধিকাংশ সময় লোডশেডিং থাকলেও মাস শেষে আগের তুলনায় অনেক বেশি বিল পাঠানো হচ্ছে। বাস্তব ব্যবহার ও মিটারের রিডিংয়ের সঙ্গে দাপ্তরিক বিলের কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে না। একদিকে নিম্নমানের সেবা, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিলের বোঝা—এই দুই সংকটে দিশেহারা মনোহরদীবাসী।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, অস্বাভাবিক বিলের কারণ তদন্ত করে দেখা এবং গ্রাহক সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই নাজুক অবস্থা সম্পর্কে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (মনোহরদী জোনাল অফিস)-এর ডেপুটি জেনারেল জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী ফযিলত রাব্বি মু'মিনাহ জানান, "মনোহরদী উপজেলায় দুটি জোন মিলিয়ে বর্তমান বিদ্যুতের মোট চাহিদা রয়েছে ৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে আমরা জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ২৭ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বিশাল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি সামাল দিতেই মূলত রেশনিং বা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।"

মানবকণ্ঠ/ডিআর