Image description

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় একশ্রেণীর প্রভাবশালী রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের হাত ধরে একের পর এক পুকুর ও জলাশয় ভরাটের মহোৎসব চলছে। সরকারি আইনে যেকোনো ধরনের জলাশয় ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও কোনো আইনের তোয়াক্কাই করছে না এই চক্রটি। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় ইতিমধ্যে উপজেলাজুড়ে শতাধিক ছোট-বড় পুকুর বিলীন হয়ে গেছে। 

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতা বজায় রেখেই পরিবেশ বিধ্বংসী এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিকলীতে জলাশয় ভরাট এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে নদী থেকে রাতভর চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন, অন্যদিকে সেই বালু দিয়েই দিনের আলোয় বিভিন্ন এলাকায় চলছে পুকুর ভরাটের কাজ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেশি থাকায় নৌপথে বালু পরিবহন সহজ হওয়ায় এই প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। এভাবে একের পর এক প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে বসতবাড়ি, দোকানপাটসহ নানা বাণিজ্যিক স্থাপনা।

অপ্রতিরোধ্য এই ভরাট প্রক্রিয়ার ফলে ব্যাহত হচ্ছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, যার ফলে বাড়ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। সরেজমিনে দেখা গেছে, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর ভরাটের ফলে নিকলী সদর ইউনিয়নের পশ্চিম নিকলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় সামান্য বৃষ্টিতেই কোমর সমান পানি জমে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। একই ইউনিয়নের ষাইটধার ও কুর্শাসহ বিভিন্ন স্থানেও জলাবদ্ধতার একই করুণ চিত্র দেখা গেছে।

ভরাটের এই তাণ্ডব কেবল সদর ইউনিয়নেই সীমাবদ্ধ নেই, উপজেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কারপাশা ইউনিয়নের আব্দুল হামিদ সড়ক সংলগ্ন এলাকাতেও চলছে বালু ভরাটের হিড়িক, যার ফলে কৃষি সেচের পথ বন্ধ হয়ে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা। এছাড়া জারইতলা ইউনিয়নের প্রধান সড়কের পাশে বিশাল বালুর 'বাল্কহেড' (ড্রেজিং পাইপের সংযোগ) বসিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন পূর্বগ্রাম দরগাহাটি এলাকায় একটি বিশাল জলাশয় ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে নদী থেকে বড় ড্রেজার ও পাইপলাইন ব্যবহার করা হচ্ছে।

সচেতন নাগরিকদের ক্ষোভের বড় কারণ হলো, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ঠিক সামনের একটি পুকুর দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ভরাট করা হলেও প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয়দের দাবি, গত ২ বছরে অন্তত শতাধিক পুকুর ভরাট করা হয়েছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে নামমাত্র অভিযান চালালেও পরদিন থেকেই পুনরায় শুরু হয় ভরাট কাজ।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেহানা মজুমদার মুক্তির সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসক কিশোরগঞ্জ সোহানা নাসরিন এ প্রতিনিধিকে জানান, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর