এসএসসি ২০২৬
রায়গঞ্জে ৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি, শীর্ষে দাদপুর সাহেবগঞ্জ
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলার মোট ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে দাখিল পর্যায়ের ৬টি মাদরাসা, এসএসসি (ভোকেশনাল) একটি এবং দাখিল (ভোকেশনাল) একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হারের দিক থেকে উপজেলায় শীর্ষে রয়েছে দাদপুর সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
দাখিল পরীক্ষায় যে ৬টি মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলো হলো— ফরিদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, হাসিল দাখিল মাদরাসা, বিএম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, কয়ড়া দাখিল মাদরাসা, মীরের দেউলমুড়া মহিলা দাখিল মাদরাসা এবং বাসুদেবকোল শ্রী রামের পাড়া দাখিল মাদরাসা। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার শূন্য শতাংশ।
এছাড়া এসএসসি (ভোকেশনাল) শাখায় আই আর টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় কুটারগাতি দাখিল মাদরাসা (ভোক.) থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
উপজেলায় এবার দাখিল পরীক্ষায় মোট ৬৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ১০০ জন। পাসের হার মাত্র ১৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২ জন। তবে দাখিল পর্যায়ে পাসের হারে ৪০ শতাংশ নম্বর নিয়ে উপজেলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সরাইশ্রীকোলা দাখিল মাদরাসা। এর পরেই ৩৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ পাসের হার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সলঙ্গা মহিলা দাখিল মাদরাসা।
অন্যদিকে, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় উপজেলার মোট ৫০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৭৭ জন। পাসের হার ৩৫ দশমিক ১১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। ভোকেশনাল শাখায় ৭১ দশমিক ৭৯ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে দেউলমুড়া এস কে মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৫৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৪১৮ জন, পাসের হার ৫৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৯ জন।
এই শাখায় ৭৯ দশমিক ১০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে দাদপুর সাহেবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ধানগড়া উচ্চ বিদ্যালয় (পাসের হার ৭২.৫০%) এবং তৃতীয় অবস্থানে সলঙ্গা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (পাসের হার ৭০.৮৩%)।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ এসএসসিতে পাসের হার সন্তোষজনক হলেও দাখিল ও ভোকেশনাল শাখার ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশেষ করে ৮টি প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করায় স্থানীয় সচেতন মহলে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শূন্য শতাংশ পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিআর




Comments