গাইবান্ধায় প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৩
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) অপহরণের ১০ দিন পর উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় করা অপহরণ মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সমস গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. বেল্লাল হোসেন (৩৩) ও মো. বিদ্যুৎ (২৮) এবং বেড়াডাঙ্গা বাজার এলাকার মৃত মছলিম উদ্দিনের ছেলে মো. বাবুল হোসেন (৩৫)।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর পি.এন. বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে বেল্লাল হোসেন তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। ওই ছাত্রী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।
এরই জেরে গত ৩১ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আসামিদের বাড়ির উত্তর পাশের পাকা সড়কে পৌঁছালে বেল্লাল হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে আসামির স্বজনদের কাছে বিষয়টি জানানো হলে তারা স্কুলছাত্রীকে খুঁজে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও কোনো সন্ধান দেয়নি।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর বাবা গত ৫ আগস্ট সুন্দরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। র্যাব জানায়, স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে তারা গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দিবাগত গভীর রাতে র্যাব-১৩ এর সিপিসি-৩, গাইবান্ধার একটি দল সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সমস গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার এবং মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, “অভিযান চালিয়ে অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ভিকটিম ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুন্দরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
ডিআর




Comments