Image description

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্য দিবালোকে ও রাতের আঁধারে চলছে সরকারি সম্পদ ধ্বংসের মহোৎসব। শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডিএনডি লেকের সৌন্দর্য নষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করে বসানো হয়েছে অবৈধ ড্রেজারের পাইপ। স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকে ম্যানেজ করে এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বাগুয়াবাড়ি এলাকার মৃত মিছির আলীর ছেলে মহব্বত আলী তপু ওরফে বাবু।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাছিদ) উদ্যোগে ডিএনডি লেকটিকে দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ এখনও শেষ হয়নি, মেলেনি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও। তবুও প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমান। লেকের পূর্ব পাশে আদমজী-নারায়ণগঞ্জ সড়ক এবং পশ্চিম পাশে সিটি কর্পোরেশনের নতুন সড়ক। আদমজী ইপিজেডসহ সংলগ্ন শিল্পকারখানার কারণে দুটি পথ দিয়েই প্রতিনিয়ত ভারী যানবাহন ও শ্রমিকরা চলাচল করেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ড্রেজার সংযোগের জন্য সাইলেন্ডার বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা দিয়ে রাতের আঁধারে সড়কের নিচে সুড়ঙ্গ করা হয়েছে। এরপর লেকের মধ্যে বাঁশের খুঁটি গেড়ে ড্রেজারের পাইপ টেনে নেওয়া হয়েছে মিজমিজি পাগলা বাড়ি পর্যন্ত। সুড়ঙ্গ ও পাইপ বসানোর ফলে সড়ক যেমন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে, তেমনি মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে লেকের সার্বিক সৌন্দর্য ও পরিবেশবান্ধব আবহ।

মিজমিজি পাগলা বাড়ি এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাতের আঁধারে সড়ক সুড়ঙ্গ করে এভাবে পাইপ বসানোয় রাস্তাটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। একই সঙ্গে শত কোটি টাকার এই সুন্দর লেকটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।”

অনিয়মের মাত্রা কেবল লেকেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ পথ, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ফুটপাত হিসেবে ব্যবহৃত হতো, তাও এখন সম্পূর্ণ হকারদের দখলে।

কাজের দায়িত্বে থাকা লেবার সর্দার আতাউর রহমান জানান, জাতীয় পার্টি নেতা বাবু এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিলের নির্দেশেই তারা সড়ক সুড়ঙ্গ করে পাইপ বসানোর কাজ করছেন। এ সময় অভিযুক্ত জাপা নেতা বাবু ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কোনো বক্তব্য না দিয়ে তড়িঘড়ি করে স্থান ত্যাগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পাইপ বসানোর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, সাধারণ মানুষের বিনোদনের কথা ভেবে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এই লেকটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় তদারকির অভাবে লেক ও ভেতরের রাস্তাগুলো হকার ও প্রভাবশালী দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। অবিলম্বে অবৈধ দখলদার ও অবকাঠামো ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ডিআর