Image description

কুমিল্লার মুরাদনগরে পারিবারিক কলহের জেরে ১০ বছর বয়সী ছেলের সামনেই আর্জুনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী জামাল শিকদারের বিরুদ্ধে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।

নিহত আর্জুনা বেগম পাহাড়পুর গ্রামের জামাল শিকদারের স্ত্রী। এই দম্পতির ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহের এলাকা থেকে পাহাড়পুর গ্রামে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন জামাল শিকদার ও আর্জুনা বেগম। জামাল শিকদার স্থানীয় ‘বিসমিল্লাহ ফিশারি প্রজেক্টে’ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জামাল শিকদার উত্তেজিত হয়ে তাঁর ছেলের সামনেই ধারালো দা দিয়ে আর্জুনা বেগমকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই আর্জুনা বেগমের মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জামাল শিকদার দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আঃ ছামাদ মাঝি বলেন, “খবর পেয়ে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং ঘরের দরজার কাছে আর্জুনা বেগমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। এ সময় তাঁর ছোট ছেলে ইয়াসিন সেখানে উপস্থিত ছিল এবং সে অত্যন্ত আতঙ্কিত অবস্থায় ছিল।”

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জামাল শিকদার পলাতক থাকলেও তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ডিআর