রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী থাকলেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১ জন। বাকি ৮ জন শিক্ষার্থীই অকৃতকার্য হয়েছেন। একমাত্র উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর ফলাফল জিপিএ-২.৫০। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও বাল্যবিবাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এমন ফলাফলের কারণ নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভিন্নমত। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও বাল্যবিবাহের কারণে পড়াশোনায় বড় ধরনের ছেদ পড়েছে। অন্যদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত পাঠদান না হওয়া, শিক্ষকদের উদাসীনতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ নজরদারির অভাবেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান তলানিতে ঠেকেছে।
চলতি বছর রাজশাহী জেলায় এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চারঘাট উপজেলায় পাসের হার ৬০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করলেও খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল হয়েছে হতাশাজনক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী রয়েছেন। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাচে শিক্ষার্থী ছিল মোট ১৮ জন। কিন্তু নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে ওঠার পর ৯ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৯ জন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা খাতুন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জন বাল্যবিয়ের কারণে পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ জনের মধ্যেও ৫ জন বিবাহিত। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণিতেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। কম বয়সে বাল্যবিবাহের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণেই ফলাফল খারাপ হয়েছে।
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মসলেম আলী বলেন, ১০ জন শিক্ষক মিলে মাত্র নয়জন শিক্ষার্থীকে ঠিকমতো দেখাশোনা ও পড়াশোনা করাতে না পারলে ফল ভালো হবে কীভাবে? ১ জন পাস করেছে, সেটাও টেনেটুনে। শিক্ষকদের উদাসীনতার কারণেই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে।
খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন ফলাফল নিয়ে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের নজর পড়েছে। চারঘাট উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার রাহেদুল ইসলাম বলেন, খড়েরবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ১ টি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও যদি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯ জনের মধ্যে ৮ জনই ফেল করে, তাহলে শুধু শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি বা বাল্যবিবাহকে দায়ী না করে বিদ্যালয়ের পাঠদান, উপস্থিতি তদারকি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, বিদ্যালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
ডিআর




Comments