পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাহিন নামের এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা প্রবাসীর ছেলেকে গুলি করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি মাত্র দুই বছরের এক শিশুর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে ডাকাত দল।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাত তিনটার দিকে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল জানালার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। বাড়ির বাইরে আরও কয়েকজন পাহারায় ছিল। ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এসময় তারা প্রবাসীর স্ত্রী রুমা বেগম (৪০) ও পুত্রবধূ রেজবিকে (১৮) মারধর করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়।
মায়ের আর্তচিৎকারে প্রবাসীর ছেলে নাইম (২২) বাধা দিতে এলে ডাকাতরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তার পায়ের হাঁটুর ওপরে গুলি বিদ্ধ হয়। এরপর ডাকাতরা প্রবাসীর দুই বছরের শিশু সন্তান তাসফির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ২ লাখ নগদ টাকা ও একটি আইফোন লুটে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পরই স্থানীয়রা গুরুতর আহত নাইমসহ পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নাইম ও তার পরিবারের সদস্যদের বরিশাল শের-এ-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রেফার করেন।
প্রবাসী মাহিনের স্ত্রী রুমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার স্বামী বিদেশে থাকেন। আমরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ডাকাতরা গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আমাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমার ছেলেকে গুলি করেছে আর কোলের শিশুর মাথায় পিস্তল ধরে সবকিছু নিয়ে গেছে। আমরা এখন নিঃস্ব।”
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
ডিআর




Comments