Image description

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর নামে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর ও দক্ষিণ চরপাড়া গ্রামে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের মাধ্যমে ওই গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর কাজ শুরু করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে খুঁটি বসানোর জন্য পরিবহন খরচের অজুহাতে অর্ধ শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয়, মিটারসহ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে আরও দুই হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। সময়মতো টাকা না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দিয়েছে সিন্ডিকেটটি।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য তহমিনা বেগম, সাহানাজ বেগম, রিয়াজ হাওলাদার ও জাহিদ ফরাজীসহ অন্যরা অভিযোগ করে বলেন, নিদারুণ এই বর্ষা মৌসুমে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার আশায় তারা ধার-দেনা করে টাকা জোগাড় করে ওই সিন্ডিকেটকে দিয়েছেন। সংযোগ না পাওয়ার ভয়ে তারা এই অনৈতিক দাবির প্রতিবাদ করতে পারছেন না।

তবে অভিযুক্ত স্থানীয় যুবদল নেতা রিয়াজ সিকদার চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, "শ্রমিকদের খাওয়ার খরচ বাবদ গ্রাহকরা স্বেচ্ছায় কিছু টাকা দিয়েছেন, কোনো জোর-জবরদস্তি করা হয়নি।"

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক হারুন-অর রশিদ বলেন, "সংগঠন কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয় না। এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

কলাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান জানান, সরকারিভাবে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ চলমান রয়েছে এবং এখানে গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, "অর্থ আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

ডিআর