মাধবপুরে নামজারি করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে ভূমি মালিকরা
বেঙ্গাডোবা মৌজায় ৩৪৩টি খতিয়ানের অনলাইন এন্ট্রি নেই, রেকর্ড ও অনলাইন তথ্যে অসঙ্গতি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বেঙ্গাডোবা মৌজায় ভূমির নামজারি করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভূমি মালিকরা। রেকর্ডীয় ভলিউমে দাগ, খতিয়ান ও মালিকের নাম সঠিক থাকলেও অনলাইন ভূমি রেকর্ডে তথ্যের ঘাটতি ও অসঙ্গতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে অনেক ভূমি মালিক জমি নামজারি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেঙ্গাডোবা মৌজার ৩৪৩টি খতিয়ানের অনলাইন এন্ট্রি নেই। ফলে এসব খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত জমির নামজারি করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ছেন ভূমি মালিকরা। সমস্যা সমাধানে গত ৯ আগস্ট মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে হবিগঞ্জ রেকর্ডরুম শাখায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ভূমি মালিকদের অভিযোগ, একই জমির রেকর্ডীয় পর্চা ও ভলিউমে দাগ, খতিয়ান এবং মালিকানার তথ্য সঠিক রয়েছে। অথচ অনলাইন ভূমি রেকর্ডে প্রবেশ করলে অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন দাগ নম্বর ও মালিকের নাম প্রদর্শিত হচ্ছে। আবার ৩৪৩টি খতিয়ানের তথ্য অনলাইনেই এন্ট্রি করা হয়নি। ফলে কাগজপত্রে জমির মালিকানা সঠিক থাকার পরও অনলাইন তথ্যের সঙ্গে মিল না থাকায় নামজারি আবেদন করতে গিয়ে নানা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে তাদের।
সম্প্রতি নোয়াপাড়া ইউনিয়নের বেঙ্গাডোবা মৌজার রেকর্ডীয় পর্চা ও অনলাইন রেকর্ডের তথ্য পর্যালোচনাতেও এমন অসঙ্গতির চিত্র পাওয়া গেছে। রেকর্ডীয় নথিতে থাকা দাগ, খতিয়ান ও মালিকানার তথ্যের সঙ্গে অনলাইন তথ্যের মিল না থাকায় সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সুজিত দেব জানান, শুধু একটি-দুটি নয়, এমন অসংখ্য খতিয়ানের তথ্যের ক্ষেত্রেই একই ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। রেকর্ডীয় ভলিউমের তথ্যের সঙ্গে অনলাইন রেকর্ডের মিল না থাকায় বেঙ্গাডোবা মৌজার নামজারি কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, রেকর্ডীয় ভলিউম ও অনলাইন ভূমি রেকর্ডের তথ্যের অসঙ্গতির কারণে বেঙ্গাডোবা মৌজার অনেক নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ৩৪৩টি খতিয়ানের অনলাইন এন্ট্রি না থাকায় সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিকরা সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়টি সমাধানে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে হবিগঞ্জ রেকর্ডরুম শাখায় লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
ভূমি মালিকরা জানান, জমি ক্রয়-বিক্রয়, উত্তরাধিকারসূত্রে মালিকানা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কাজে নামজারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রেকর্ড ও অনলাইন তথ্যের অসঙ্গতি এবং প্রয়োজনীয় খতিয়ানের তথ্য অনলাইনে না থাকায় নামজারি করতে না পেরে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ভূমি অফিসে গিয়েও সমস্যার সমাধান না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে রেকর্ডীয় ভলিউম ও অনলাইন ভূমি রেকর্ডের তথ্য যাচাই করতে হবে। যেসব ৩৪৩টি খতিয়ানের তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি হয়নি, সেগুলো দ্রুত এন্ট্রি করার পাশাপাশি রেকর্ডের সঙ্গে অনলাইন তথ্যের অসঙ্গতিও সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত ভূমি মালিকদের হয়রানি বন্ধ করে দ্রুত নামজারির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভূমি মালিকদের প্রশ্ন, রেকর্ডীয় ভলিউমে দাগ, খতিয়ান ও মালিকের নাম সঠিক থাকার পরও অনলাইনে ভিন্ন তথ্য কেন প্রদর্শিত হচ্ছে? আবার ৩৪৩টি খতিয়ানের তথ্য অনলাইনে এন্ট্রি না থাকার কারণই বা কী? এসব প্রশ্নের দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. জি. এম. সরফরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। রেকর্ডীয় ভলিউম ও অনলাইন রেকর্ডের তথ্যের অসঙ্গতি নিরসনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে সমস্যাটি কবে নাগাদ পুরোপুরি সমাধান হবে বা কতদিন সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।
এসএ




Comments