Image description

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা সড়কে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামান্য বৃষ্টির পানিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়ে সংযোগ সড়ক ধসে পড়ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত কয়েক হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি বান্দরবানের লামা উপজেলার কয়েক লাখ মানুষও এ সড়ক ব্যবহার করেন। সড়কটির ওপর সেতু নির্মাণের ফলে চট্টগ্রাম ও বান্দরবান জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। তবে নির্মাণের স্বল্প সময়ের মধ্যেই সামান্য বৃষ্টির পানিতে সংযোগ সড়কের এমন বেহাল দশায় স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ফারেঙ্গা-লামা সড়কের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের পার্শ্ববর্তী অংশ ভেঙে নিচে নেমে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থানে মাটি ভরাট করা হলেও তা যথাযথভাবে কমপ্যাক্ট করা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সংযোগ সড়কে ঢাল সুরক্ষা, পানি নিষ্কাশন ও পার্শ্ববর্তী মাটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩-এর আওতায় চুনতি-ফারেঙ্গা সড়কে ১৮ ও ১৬ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় কনসুলেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা এহেসান বলেন, সেতুটি ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু সেতু নির্মাণের সময় ঢাল সুরক্ষা, পানি নিষ্কাশন ও সড়কের পার্শ্ববর্তী মাটি সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জানে আলম বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থান দেবে যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। এলজিইডি কার্যালয় থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো সংস্কারের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আল আমিন বলেন, সংযোগ সড়কে গর্তের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো সংস্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

লোহাগাড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ধসে পড়া স্থান ও ভাঙনগুলো সংস্কার করে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএ