Image description

আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ এবং এই অমানবিক অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবিতে ২০১০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে অসংখ্য মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই দুঃসহ স্মৃতির এক জীবন্ত সাক্ষী মাদারীপুর-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও তাঁর চোখে জল নামে।

জানা গেছে, রাজনৈতিক কারণে খোকন তালুকদার দুই দফায় গুমের শিকার হন। ২০১৪ সালে প্রথমবার তাকে টানা তিন মাস ১৭ দিন এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার তিন দিন নিখোঁজ রাখা হয়। প্রথমবার তাকে রাজধানীর ধানমন্ডির মেট্রো শপিং মল এবং শেষবার রমনা হোটেলের ভেতর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। গুম থাকাকালীন তাঁর ওপর চালানো হয় অমানসিক নির্যাতন। প্রথমবার তাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফরিদপুরের কানাইপুরে মহাসড়কের পাশে এবং দ্বিতীয়বার রমনা থানায় ফেলে রেখে যায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরে আমার অনেক সহযোদ্ধা গুম হয়ে আর ফিরে আসেনি। বিএনপি সরকার গঠন করার পর ‘আয়না ঘরে’ তল্লাশি চালিয়েও অনেক নিখোঁজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এসব নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারে হাসি ফোটাতে বর্তমান বিএনপি সরকার কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “সহকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্যই শেখ হাসিনা সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গুম করার মাধ্যমে এই গুমের নাটক শুরু করেছিল। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে যারা সক্রিয় ছিল, তারা প্রত্যেকেই এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন।”

উল্লেখ্য, আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ১৯৯৮ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম খান্দুলী গ্রামের হাজী এছাহাক উদ্দিন রতন তালুকদারের ছেলে। তাঁর বাবা কাজীবাকাই ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানের জনক।

ডিআর