মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মিতৃংঙ্গা চা বাগানে রাতের দায়িত্ব পালনকালে পাঁচ শ্রমিককে পিটিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের মিতৃংঙ্গা চা বাগানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক।
আহত শ্রমিকেরা হলেন— সুবল মুন্ডা (৩০), রাজেশ হাজং (২৫), সুমন গড় (৩০), ফুল চাঁন উড়াং (৫৮) ও রতন উড়াং (৪০)। তারা সবাই ওই চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিক এবং সেকশন চৌকিদারের দায়িত্বে ছিলেন। আহতদের বর্তমানে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
লিখিত অভিযোগ ও বাগান সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মিতৃংঙ্গা চা বাগানের ২৬ নম্বর সেকশনের সীমানা গেট সংলগ্ন চৌকিদারদের ঘরে ১০-১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি লাঠি, লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় সুবল মুন্ডা ও রাজেশ হাজংয়ের মাথা ও শরীরে রক্তাক্ত জখম হয়। সুমন গড়ের বাম হাত ভেঙে যায় এবং অন্য দুজনকে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। শ্রমিকদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
আহতদের প্রথমে বাগান হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
মিতৃংঙ্গা চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল হায়াত খান বলেন, ‘দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সাধারণ শ্রমিকদের ওপর এমন নৃশংস হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, ‘চা বাগানের শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডিআর




Comments