Image description

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম চিৎমরম ইউনিয়নের মকবাছড়া এলাকায় স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুই সন্তানের জননী সামাথুই মারমা (৩১)। প্রায় ১৪ মাস ধরে এই মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি। অর্থাভাবে থমকে গেছে তাঁর চিকিৎসা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন শারীরিক সমস্যায় ভোগার পর সামাথুই মারমাকে প্রথমে চন্দ্রঘোনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে চট্টগ্রামের সেন্ট্রাল ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে তাঁর শরীরে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম সেন্ট্রাল ল্যাবের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মজিবের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সামাথুইকে আপাতত ২১ দিন পরপর চারটি ইনজেকশন নিতে হবে। এসব ইনজেকশনের জন্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা প্রয়োজন। এরপর পরবর্তী ধাপের চিকিৎসায় আরও প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে পরিবারটি জানিয়েছে।

সামাথুই মারমার স্বামী উথোয়াইচিং মারমা পেশায় দিনমজুর। দিনমজুরির আয় দিয়ে সংসার চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে ধারদেনা করে স্ত্রীকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে নিয়মিত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও চালিয়ে যেতে পারছেন না তাঁরা।

সামাথুই মারমার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মেঞোউ মারমা (১৪) সপ্তম শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে বাচিংথুই মারমা (৯) তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। মায়ের অসুস্থতায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে তাদের।

পরিবারটির বাড়ি চিৎমরম বাজার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়াও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় সামাথুই মারমার পরিবার সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন দাতা সংগঠন এবং মানবিক মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। পরিবারের আশা, মানুষের সহযোগিতা পেলে সামাথুই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে সন্তানদের কাছে ফিরতে পারবেন।

চিকিৎসায় সহায়তা পাঠানোর জন্য: বিকাশ/নগদ: ০১৫৭৫৪৯০৯৬২

এসএ