Image description

পটুয়াখালীর দশমিনায় বিরোধের জেরে দুই যুবকের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে রবিন ও মো. তানভীর নামে দুই যুবক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা পাঁচজনকে একটি দোকানে আটকে রেখে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের আরোজবেগী গ্রামের আরোজবেগী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—আরোজবেগী গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে রবিন ও বাবুল মাতুব্বরের ছেলে মো. তানভীর। তারা বর্তমানে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটক পাঁচজন হলেন—সুব্রত সরদার, নাজমুল, সোলাইমান, জুনায়েত ও মাসুম। তারা সবাই দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে মাদ্রাসায় ফুটবল খেলা নিয়ে তানভীর ও জুনায়েতের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যায় জুনায়েতসহ কয়েকজন আরোজবেগী বাজারে গিয়ে তানভীরকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের বাধা দেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য বিষয়টি শুক্রবার সকালে বসে মীমাংসার আশ্বাস দিলে তারা সেখান থেকে চলে যান।
তবে শুক্রবার সকালে মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বাজারে আসার আগেই জুনায়েতসহ কয়েকজন তানভীর ও রবিনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে দুজনই মাথায় আঘাত পেয়ে আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত তানভীর ও রবিনকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। একই সময় স্থানীয়রা অভিযুক্ত পাঁচজনকে একটি দোকানে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সমছুউদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
আহত তানভীর ও রবিনের দাবি, বৃহস্পতিবারের ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে শুক্রবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য তারা বাজারে আসেন। সেখানে জুনায়েতসহ কয়েকজন তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন। তানভীরকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে রবিনকেও মাথায় আঘাত করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুন বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি তানভীর ও জুনায়েতের বিরোধের বিষয়টি জানতে পারেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য শুক্রবার সকালে আরোজবেগী বাজারে বসার কথা ছিল। তবে তিনি বাজারে পৌঁছানোর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহত দুজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পাঁচজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক পাঁচজন পুলিশ হেফাজতে ছিলেন।
এসএ