Image description

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইলে মাটিবিহীন আধুনিক কৃষি পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন কৃষক ফেরদৌস মিয়া। মহানগরীর ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সাপমারা গ্রামের এ কৃষক দীর্ঘদিন ধরে পেঁপেসহ বিভিন্ন দেশীয় সবজি সফলভাবে উৎপাদন করে এলাকায় ‘সৌখিন কৃষক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির বাইরে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের সম্ভাবনা যাচাই করতে সম্প্রতি তিনি তিন কাঠা জমিতে কোকোপিট ব্যবহার করে মাটিবিহীন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে ২০০টি পলিব্যাগে কোকোপিট ব্যবহার করে এ কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি।

কোকোপিট নারিকেলের ছোবড়া বা আঁশ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি একটি জৈব মাধ্যম, যা মাটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে গাছের শিকড়ের প্রয়োজনীয় পানি, বাতাস ও পুষ্টি উপাদান নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা যায়। ফলে অল্প জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।

‘সয়েললেস কাল্টিভেশন’ বা মাটিবিহীন চাষাবাদ বিশ্বের বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তিতে উন্নত দেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গ্রিনহাউস ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কোকোপিট, হাইড্রোপনিকসহ বিভিন্ন মাটিবিহীন পদ্ধতিতে ফল ও সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে।

কৃষক ফেরদৌস মিয়া বলেন, প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি কোকোপিট ব্যবহার করে মাটিবিহীন কৃষি শুরু করেছেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন মালয়েশিয়ায় কোকোপিট ব্যবহার করে চাষাবাদে সাফল্য অর্জন করা বাংলাদেশি প্রবাসী কৃষক আরিফুল ইসলাম।

ফেরদৌস মিয়া বলেন, “মাটিবিহীন আধুনিক এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করতে প্রাথমিক সেটআপে কিছুটা বেশি খরচ হয়। তবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলে ধীরে ধীরে খরচ কমে আসবে। সফলতা এলে মৌসুমভিত্তিক নানা সমস্যা মোকাবিলা করে অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। আমার বিশ্বাস, এ ধরনের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা ও বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারে।”

আপাতত কোকোপিটে শসা চাষের মাধ্যমে নতুন এ পদ্ধতির যাত্রা শুরু করেছেন তিনি। এতে সফলতা এলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

স্থানীয়দের মতে, কৃষক ফেরদৌসের এ উদ্যোগ সফল হলে গাজীপুরসহ দেশের অন্যান্য এলাকার কৃষকরাও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে উৎসাহিত হতে পারেন। বিশেষ করে স্বল্প জমিতে পরিকল্পিতভাবে অধিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে মাটিবিহীন কৃষি পদ্ধতি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

কৃষক ফেরদৌস মিয়ার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএ