পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় আরও একজন পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বগুড়া গ্রামের মাস্টার বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন—দশমিনা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের লিটু মিয়ার ছেলে শাকিল এবং একই গ্রামের মৃত খালেক গাজীর ছেলে মনির।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া গ্রামের দলিল উদ্দিন মাস্টারের গোয়ালঘর থেকে একটি গরু নিয়ে এসে মিশুক গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এ সময় তারা গাড়িতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় ও গরুটি কার—এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা ধাওয়া করে দুইজনকে আটক করতে সক্ষম হন। পরে দশমিনা থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক দুজনকে থানায় নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী মমিন মাস্টার বলেন, এলাকায় কিছুদিন ধরে গরু চুরির প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো গাড়ি দেখলে স্থানীয়রা সতর্ক থাকেন। শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির সামনে একটি মিশুক গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজনকে খবর দিয়ে তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনজন ব্যক্তি একটি গরু নিয়ে এসে মিশুক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুজনকে আটক করা সম্ভব হলেও একজন পালিয়ে যায়।
মমিন মাস্টার আরও বলেন, আটক ব্যক্তিরা যাদের নাম বলেছেন, তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
আটক শাকিলের দাবি, তিনি দশমিনা সদর পূজাখোলা এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর, রিপন, সাগর ও মনির তাকে একটি গরু আনতে যেতে বলেন। পরে তিনি মিশুক গাড়ি নিয়ে তাদের সঙ্গে বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামে যান। গরুটি কার, সে বিষয়ে তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করলে জাহাঙ্গীর, সাগর ও রিপন পালিয়ে যান বলে জানান তিনি।
অপর আটক মনির বলেন, তিনি মাছের ব্যবসা করেন। তার প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর একটি গরু আনতে যাওয়ার কথা বললে তিনি শাকিলের মিশুক গাড়িতে করে জাহাঙ্গীর, সাগর ও রিপনের সঙ্গে বগুড়া গ্রামে যান। সেখানে একটি বাড়ির গোয়ালঘর থেকে গরু এনে মিশুক গাড়িতে তোলার সময় স্থানীয়রা তাকে ও শাকিলকে আটক করেন। এ সময় জাহাঙ্গীর, সাগর ও রিপন পালিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, আটকের পর উত্তেজিত জনতা ওই দুইজনকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখান থেকে দুইজনকে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এসএ




Comments