দাঁড়িপাল্লা এখন স্মৃতি, বাজারে ডিজিটাল মেশিন
চারঘাটের হাট-বাজারে বাটখারার টুংটাং শব্দ এখন স্মৃতি, বদলে গেছে মাপজোখের চেনা দৃশ্য
এক পাশে পণ্য, অন্য পাশে বাটখারা দুই পাল্লার ভারসাম্য মিললেই নিশ্চিত হতো ওজন। কখনো এক কেজি, কখনো ৫০০ বা ২৫০ গ্রামের বাটখারা বসিয়ে চলত মাপজোখ। দাঁড়িপাল্লার দোল, বাটখারার টুংটাং শব্দ আর দোকানির ব্যস্ততা ছিল বাজারের চেনা দৃশ্য। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই দৃশ্য এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। চারঘাটের বাজারগুলোতে দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারার জায়গা দখল করেছে ডিজিটাল ওজন মেশিন।
চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুদি দোকান থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, ফল ও সবজির দোকানসহ সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেই বাড়ছে ডিজিটাল মেশিনের ব্যবহার। পণ্য মেশিনে রাখার সাথে সাথেই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে ওজন। অনেক মেশিনে একই সাথে পণ্যের দামও দেখা যাচ্ছে। ফলে কয়েক ধাপে বাটখারা বসিয়ে ওজন মেলানোর বদলে এখন কয়েক সেকেন্ডেই শেষ হচ্ছে পুরো প্রক্রিয়া।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত সেবা দেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল মেশিনে হিসাব রাখাও সহজ। ক্রেতারাও সামনে থাকা ডিসপ্লেতে ওজন দেখতে পারায় মাপজোখের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়ছে। এ কারণে ধীরে ধীরে পুরোনো দাঁড়িপাল্লা ব্যবহারের প্রবণতা কমে এসেছে।
চারঘাট বাজারের মুদিদোকানি ইকবাল হোসেন বলেন, "সময় বদলেছে, ব্যবসার পদ্ধতিও বদলেছে। এখন ক্রেতারা দ্রুত সেবা চান। ডিজিটাল মেশিনে কয়েক সেকেন্ডেই ওজন পাওয়া যায়। ক্রেতারাও সামনে ওজন দেখতে পারেন। হিসাব করাও সহজ।"
তবে প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সাথে হারিয়ে যাচ্ছে বাজারের একটি পুরোনো সংস্কৃতিও। অনেক দোকানের এক পাশে এখনো পড়ে আছে লোহার দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা। একসময় যেগুলো ছিল প্রতিটি দোকানের অপরিহার্য সরঞ্জাম, এখন সেগুলোর ব্যবহার হয় কদাচিৎ।
চারঘাটের প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল কাদের (৭০) পুরোনো দিনের কথা স্মরণ করে বলেন, "আগে বাজারে গেলে দোকানের সামনে দাঁড়িপাল্লা আর বাটখারা থাকতই। চোখের সামনে বাটখারা দিয়ে ওজন করা হতো। সময় একটু বেশি লাগত, কিন্তু মাপজোখের ওই দৃশ্যের আলাদা একটা আকর্ষণ ছিল। এখন ডিজিটাল মেশিনে কয়েক সেকেন্ডেই সব হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সবকিছুই বদলে গেছে।"
আরেক প্রবীণ রওশন আরা (৬৫) বলেন, "ছোটবেলায় বাবার সাথে বাজারে গেলে দেখতাম, দোকানিরা বাটখারা দিয়ে চাল, ডাল, মাছ সবকিছু মাপছেন। কোন বাটখারা কত গ্রামের, সেটাও অনেকে চিনতেন। এখনকার ছেলেমেয়েরা হয়তো সেই দৃশ্য দেখেইনি।"
ব্যবসায়ীদের কাছে ডিজিটাল মেশিন এখন সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের আধুনিক হাতিয়ার। অন্যদিকে পুরোনো দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারা হয়ে উঠছে হারিয়ে যাওয়া এক বাজার সংস্কৃতির স্মারক। বাটখারার টুংটাং শব্দ এখন অনেকটাই স্মৃতি। বাজারের মাপজোখে চলছে ডিজিটালের সময়।
এসএ




Comments