বড়াল নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায়
চারঘাট স্লুইসগেট এলাকায় উঠে পড়েছে পানি
রাজশাহীর চারঘাটে বড়াল নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। নদীর পানির চাপ বাড়ায় চারঘাট স্লুইসগেটের এক পাশে সামান্য ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনস্থলের পাশেই রয়েছে একটি মন্দির। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বড়াল নদীর পানি বেড়ে চারঘাট স্লুইসগেটসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। নদীর স্রোত ও পানির চাপের কারণে স্লুইসগেটের পাশের একটি অংশে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনটি ছোট আকারে থাকলেও পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নদীর পানি বাড়ায় আরাজি সাদিপুর ও মিয়াপুর হঠাৎপাড়া এলাকার নিচু সড়কে পানি উঠেছে। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।
আরাজি সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক আলি বলেন, বড়াল নদীর পানি বাড়ার কারণে গ্রামের রাস্তায় পানি উঠে গেছে। এতে চলাচলে বেশ সমস্যা হচ্ছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করছেন।
মিয়াপুর হঠাৎপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কালাম বলেন, নদীর পানি বাড়ায় রাস্তায় পানি উঠে গেছে। এলাকার মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
একই এলাকার বাসিন্দা টেমনা ঋষি বলেন, "কয়েকদিন ধরে নদীর পানি বাড়ছে। এখন স্লুইসগেটের পাশেও পানি উঠে গেছে। সেখানে সামান্য ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের পাশেই মন্দির রয়েছে। পানি আরও বাড়লে ভাঙন বড় হতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।"
চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, "বড়াল নদীর পানি বৃদ্ধি এবং স্লুইসগেট এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, "বড়াল নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। ছোটখাটো ভাঙনগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কোথাও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে স্লুইসগেটসংলগ্ন ভাঙন দ্রুত বড় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ভাঙনস্থলের পাশে থাকা মন্দিরসহ আশপাশের স্থাপনা ও চলাচলের সড়ক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই ভাঙন বড় আকার ধারণ করার আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসএ




Comments