পুলিশের পোশাক পরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ছবি ভাইরাল
এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা ছবি পোস্ট করে ‘পুলিশে যোগদানের’ দাবি করেছেন শরিফা উর্মি নামের এক তরুণী। বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ পুলিশে জয়েন্ট করলাম, সবাইকে মিষ্টি খাওয়াবো।’
ছবিতে তাকে পুলিশের পোশাক পরা অবস্থায় একটি পুলিশ ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, শরিফা উর্মি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও স্থানীয় নারী ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত। তবে বাংলাদেশ পুলিশে তার চাকরি বা নিয়োগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা, ভিউ বা আলোচনায় আসার উদ্দেশ্যেই পুলিশের পোশাক ও গাড়ি ব্যবহার করে ওই ছবি ও পোস্ট করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে শরিফা উর্মির বক্তব্য জানা যায়নি।
পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের পোশাক ও সরকারি গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, কন্টেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যেও কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, প্রতীক বা পরিচয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকা প্রয়োজন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারী না হয়েও সরকারি কর্মচারীর পরিচয় বহনকারী পোশাক বা প্রতীক ব্যবহার করে অন্যকে বিভ্রান্ত করার বিষয়টি আইনগতভাবে প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ১৭১ ধারায় সরকারি কর্মচারীর পোশাক বা প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতারণামূলকভাবে ওই পরিচয় ধারণের বিষয়ে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এ ঘটনায় ওই ধারা প্রযোজ্য কি না, তা নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ওপর।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ওসি শেখ আওয়াল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ছবিটি কীভাবে ধারণ করা হয়েছে এবং পুলিশের পোশাক ও গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগ কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এসএ




Comments