Image description

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার ভাঙারি ব্যবসায়ী আইয়ুব হোসেন (৩৫) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানার মাস্টারপাড়া এলাকার মৃত মানিক মিয়ার ছেলে মো. শাহিনুর ইসলাম (৩০) এবং সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার মো. জামির হোসেন (৫৭)। শাহিনুর বর্তমানে কাঁচপুর উত্তরপাড়ায় আলতু মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।

পুলিশ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সোনারগাঁও থানা পুলিশ সোনাপুর জালালাবাদ ওষুধ ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত ভাঙারি গোডাউনের পূর্ব পাশে একটি ডোবা থেকে সাদা প্লাস্টিকের মুখ বাঁধা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি আইয়ুব হোসেনের বলে শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শাহিন ও জামিরসহ আরও কয়েকজন আইয়ুব হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও টাকার বিনিময়ে শাহিনকে ব্যবহার করে আইয়ুবকে তার ভাঙারির দোকানে প্রবেশ করানো হয়। পরে সেখানে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে ঘটনাস্থলের পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার শাহিনুর ইসলাম নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এসএ