হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিচার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ওই নারী শিক্ষিকা। তবে অভিযোগের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় মানসিক কষ্ট ও হতাশায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষকের মোবাইল ফোন হস্তান্তরের অজুহাতে ওই শিক্ষকের শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন আইসিটি সেল/নিরাপত্তা শাখার অফিস সহায়ক নাজমুল হাসান। একপর্যায়ে নাজমুল ওই শিক্ষিকার দুই হাত ধরে জোরাজুরি শুরু করেন। পরে কৌশলে নিজেকে তার হাত থেকে রক্ষা করেন ওই শিক্ষিকা।
ঘটনার সময় মান-সম্মানের কথা বিবেচনা করে তিনি চিৎকার করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে ঘটনার বিচার এবং অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেন তিনি। আবেদনে ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত ও অস্বস্তিকর হিসেবে উল্লেখ করেন ওই শিক্ষিকা।
অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহায়ক নাজমুল হাসানও কমিটির কাছে লিখিতভাবে তার আচরণ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির সদস্যরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিটির আহ্বায়কের কাছে সুপারিশ করেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
কমিটির এক সদস্য জানান, নারী শিক্ষিকার অভিযোগের ঘটনার সত্যতা এবং অভিযুক্ত অফিস সহায়কের লিখিত স্বীকারোক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। তার লিখিত বক্তব্য ও স্বীকারোক্তি কমিটির কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
ওই সদস্য আরও বলেন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ যৌন হয়রানির আওতাভুক্ত হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলামূলক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে আহ্বায়কের কাছেও লিখিতভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য জানান, কমিটির সভায় উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, যা আহ্বায়কের মাধ্যমে সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ড. জান্নাত শোপান জানান, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মুজাম্মেল হক জানান, নারী শিক্ষিকার করা যৌন হয়রানির অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটির সদস্যরা তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে তারা প্রতিবেদন দেবেন এবং প্রতিবেদনটি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপর সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এসএ




Comments