Image description

গাজীপুরের কালীগঞ্জে সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের এক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা জাহিদ মুন্সিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ মুন্সি কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড মুনসেফপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে। তিনি উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ধর্ষণের ঘটনা ও মামলা দায়েরের পরপরই গাজীপুর জেলা এনসিপির পক্ষ থেকে তাঁকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ‘খোদেজা শপিং কমপ্লেক্সে’ চশমা ও ঘড়ির ব্যবসা করতেন জাহিদ মুন্সি। কিছুদিন আগে সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের এক ছাত্রী তাঁর দোকানে ঘড়ি কিনতে গেলে জাহিদের সাথে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হতো এবং তাঁরা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতেন।

একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাহিদ মুন্সি ওই ছাত্রীকে রিসোর্ট ও হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জাহিদ নানা টালবাহানা শুরু করেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে শ্রমিক কলেজ থেকে ওই ছাত্রীকে নিয়ে পূবাইল থানার মীরের বাজারের একটি গেস্ট হাউজে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণ করেন জাহিদ। একই দিন বিকেলে আড়িখোলা রেলওয়ে স্টেশনের পরিত্যক্ত স্টাফ কোয়ার্টারে নিয়ে ফের তাঁকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। সেখানে ওই ছাত্রী পুনরায় বিয়ের কথা বললে জাহিদ তাঁকে হুমকি দেন যে, তাঁদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়া হবে।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ঘটনাটি তাঁর বড় বোনকে জানান। বড় বোন বাদী হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ থানায় জাহিদ মুন্সির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (২০০০, সংশোধনী ২০০৩) মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত জাহিদ আত্মগোপনে ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, "মামলা হওয়ার পর থেকেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছিল। মঙ্গলবার রাতে পূবাইল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নাগরী ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।"

ডিআর