Image description

পটুয়াখালীতে লাউগাছের চারা রোপণকে কেন্দ্র করে রানী বেগম নামে এক নারীকে হত্যার মামলায় প্রতিবেশী আবদুল হালিম রাড়ীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তার স্ত্রী পুষ্প বেগমকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আবদুল হালিম রাড়ীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, পুষ্প বেগমকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবদুল হালিম রাড়ী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে তার স্ত্রী ও অপর আসামি পুষ্প বেগম পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর গ্রামে নিজ বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে লাউগাছের চারা রোপণ করছিলেন রানী বেগম। এ সময় প্রতিবেশী আবদুল হালিম রাড়ী ও তার স্ত্রী পুষ্প বেগম এতে বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে আবদুল হালিম তার হাতে থাকা দায়ের উল্টো পাশ দিয়ে রানী বেগমের ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহত রানী বেগমের স্বামী আবদুল কাশেম রাড়ী বাদী হয়ে ওই দিনই বাউফল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আবদুল হালিম রাড়ী ও পুষ্প বেগমকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের জুন মাসে তদন্তকারী কর্মকর্তা দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলায় ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষে প্রায় পাঁচ বছর পর আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন, “এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ছিল। সেই সংস্কৃতির অবসানের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। আশা করছি, বিচারকদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারব।”

এসএ