Image description

মাত্র ৫০ টাকার নোট ভাঙানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ গড়াল পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে। প্রথমে এক যুবক আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ গেল রাজশাহীর ডিঙ্গাডোবার এক মুদি দোকানদারের। নিহত মো. বারিউল (৪০) ওই এলাকায় মুদি দোকান চালাতেন। এ ঘটনায় মো. রাসেল (৩০) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা বাকির মোড় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রাসেল মাথায় আঘাত পান। এর কয়েক ঘণ্টা পর রোববার রাত পৌনে ১টার দিকে ডিঙ্গাডোবা রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণ পাশে একটি মুদি দোকানের সামনে বারিউলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, ৫০ টাকার নোট খুচরা করা নিয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এতে রাসেল মাথায় আঘাত পান। পরে তার আত্মীয়-স্বজনদের হামলায় বারিউল গুরুতর আহত হন। তবে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বারিউলের দোকানে হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করে। একই সঙ্গে দোকানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। পুলিশ অবশ্য পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা অস্বীকার করেছে।

প্রথমে রাসেল, পরে বারিউলের ওপর হামলা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইনসিডেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে ডিঙ্গাডোবা বাকির মোড় এলাকায় বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চণ্ডীপুর এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে রাসেল গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

এর কয়েক ঘণ্টা পর রোববার রাত পৌনে ১টার দিকে ডিঙ্গাডোবা রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণ পাশে ফিরোজের মুদি দোকানের সামনে বারিউলের ওপর হামলা হয়। স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে রাত ১টা ২০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত বারিউল ডিঙ্গাডোবা বাকির মোড় এলাকার বাসিন্দা বদরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ওই এলাকায় একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।

স্বজনদের দাবি, দোকানে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যা

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সন্ধ্যার পর চণ্ডীপুর এলাকার কয়েকজন যুবক বারিউলের দোকানে গিয়ে টাকা ভাঙাতে চান। বারিউল এতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

স্বজনদের অভিযোগ, এর জের ধরে পরে ৫০ থেকে ৫৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রলবোমা নিয়ে বারিউলের দোকানের সামনে আসে। হামলাকারীরা দোকানের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে তারা দাবি করেন। আগুনের কারণে বারিউল ও তার পরিবারের সদস্যরা দোকান থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় হামলাকারীরা বারিউলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

পরে হামলাকারীরা চলে গেলে স্বজনরা বারিউলকে উদ্ধার করে রামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে দোকানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ ও আগুন দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের ভিন্নতা রয়েছে।

‘পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি’

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান বলেন, ৫০ টাকার নোট খুচরা করা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে হাতাহাতির ঘটনায় রাসেল মাথায় আঘাত পান এবং তাকে রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে রাতেই তার আত্মীয়-স্বজন মিলে হামলা চালালে বারিউল গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, দোকানে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে এ ধরনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনায় রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এসএ