স্টার জুট মিলস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গাজী লুৎফরকে অব্যাহতি
নতুন দায়িত্ব পেলেন নীলুফার ইয়াসমিন
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনীমহলস্থ বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন স্টার জুট মিলস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বহুলালোচিত ও বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গাজী লুৎফর রহমানকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নীলুফার ইয়াসমিনকে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
বিজেএমসি প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা (স্মারক নং- ২৮.০৪.০০০০.২০০.৩০.১০২.২২-৫৪৩, তারিখ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এবং স্টার জুট মিলস লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত দপ্তর আদেশের (তারিখ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মাধ্যমে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
নথি ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের লক্ষ্যে পদ সৃজনের নিমিত্ত কাগজপত্র পর্যালোচনাকালে গাজী লুৎফর রহমানের পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি সামনে আসে। পরবর্তীতে বিজেএমসি গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, গাজী লুৎফর রহমান ২০০১ সালে ১৬তম গ্রেডে বিদ্যালয়টির প্রাইমারি শাখায় জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে পরবর্তীতে বিজেএমসির বোর্ড সভা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন ছাড়াই কেবল মিলের একটি নোটশীটের মাধ্যমে ২০১০ সালে তাঁকে বেআইনিভাবে মাধ্যমিক শাখায় স্থানান্তর করা হয় এবং ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা উন্নীত করা হয়, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনি।
বিজেএমসি ও স্টার জুট মিলস কর্তৃপক্ষ জানায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) খুলনা অঞ্চলের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং পদবী জালিয়াতিরোধ করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্টার জুট মিলের প্রকল্প প্রধান (জিএম) মো. আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজেএমসির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মোতাবেক গাজী লুৎফর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ডিআর




Comments