Image description

কয়েক দিন আগেও যে আমনখেতের মাটি ছিল ফেটে চৌচির, বৃষ্টির পানিতে সেই মাঠেই এখন ফিরেছে স্বস্তি। শুকিয়ে যাওয়া জমিতে জমেছে প্রয়োজনীয় পানি। সতেজ হয়ে উঠেছে আমন ধানের সবুজ পাতা। কোথাও ধানের শিষ দুলছে বাতাসে, কোথাও আবার চলছে শিষ বের হওয়ার প্রস্তুতি। দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে আমন নিয়ে কৃষকের যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে তা অনেকটাই কেটেছে। কমেছে সেচের বাড়তি খরচের চাপ। এখন ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকেরা।
সরেজমিনে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমনখেত ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে ফিরেছে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা। পানি পেয়ে শুকিয়ে যাওয়া ধানগাছগুলোও যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সবুজ হয়ে উঠছে বিস্তীর্ণ মাঠ।
কৃষকেরা বলছেন, আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ বৃষ্টি তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচের প্রয়োজন কমেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছিল। ধানের গাছও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেচ দিতে হলে বাড়তি খরচ হতো। এখন বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি এসেছে। ধানগাছও সতেজ হয়ে উঠেছে। এভাবে আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।
সরদহ ইউনিয়নের খোর্দ্দগোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, আমন ধানের জন্য সময়মতো বৃষ্টি খুব দরকার। বৃষ্টি না থাকায় জমিতে পানি দেওয়ার চিন্তা করছিলাম। এর মধ্যেই বৃষ্টি হওয়ায় অনেক উপকার হয়েছে। এখন ধানের শিষ ভালোভাবে বের হলে ফলনও ভালো হবে।
চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন ধানের বৃদ্ধি, ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জমিতে সেই আর্দ্রতা ফিরে এসেছে, যা ধানের জন্য ইতিবাচক। তবে অতিরিক্ত পানি যাতে দীর্ঘ সময় জমিতে জমে না থাকে, সেদিকেও কৃষকদের নজর রাখতে হবে।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জমিতে আর্দ্রতা ফিরেছে, যা ধানের জন্য উপকারী।
তিনি আরও বলেন, এ সময়ে কৃষকদের নিয়মিত ধানখেত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। রোগবালাই বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিতে হবে। সঠিক সময়ে পরিচর্যা করা গেলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, মৌসুমের বাকি সময়েও প্রয়োজন অনুযায়ী বৃষ্টিপাত হলে আমনের ফলন ভালো হবে। এতে সেচের খরচ কমার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন ঘরে তুলতে পারবেন তারা। আর সেই প্রত্যাশাতেই এখন সবুজ হয়ে ওঠা আমনখেতের দিকে তাকিয়ে স্বপ্ন বুনছেন চারঘাটের কৃষকেরা।
এসএ