Image description

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে নিজেই বাদী হয়ে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেত্রকোণা-৫ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে কেউ যদি দুর্নীতি করে, আমি আইনজীবী হিসেবে নিজেই বাদী হয়ে মামলা করব। আমি আমার ওয়াদা রক্ষা করব।’

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি এলাকার কাপাসকাটিয়া ব্লকের কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সুসং সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে চার কোটির বেশি মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে হেলথ কার্ডও চালু করা হবে। এসব কার্ড দেওয়ার বিনিময়ে কাউকে এক টাকাও না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘গত দেড় দশকে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম তৈরি হয়েছে। কলমাকান্দার লেংগুড়ায় ভবন মালিককেও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ওই ব্যক্তির ঈশ্বরগঞ্জে বিয়ে দেওয়া মেয়ের নামেও ফ্যামিলি কার্ড হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অনিয়মের কারণে নিয়মের মধ্যে আবার আমরা আসার চেষ্টা করছি।’

দুর্গাপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ৯৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১০ জন সুপারভাইজারের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, প্রকৃত দরিদ্র মানুষকে চিহ্নিত করাই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। কুঁড়েঘর, ছাপড়া ঘর কিংবা যাদের ঘর নেই—তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি বলে, অমুকেরটা নিয়েছেন, আমারটা নেননি—এ ধরনের কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। মেধা ও সততার সঙ্গে তথ্য সংগ্রহ করবেন।’

তথ্য সংগ্রহকারীদের পাশাপাশি সুপারভাইজারদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ করা তথ্য পুনরায় যাচাই করতে হবে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা প্রকৃত সুবিধাভোগী কি না, তা ক্রস-চেক করে নিশ্চিত হতে হবে।

দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে কায়সার কামাল বলেন, ‘কে আমাকে ভোট দিয়েছেন, সেটা আমি দেখব না। সবাই এই এলাকার নাগরিক, সবাই এই রাষ্ট্রের নাগরিক। প্রত্যেক নাগরিকের হক আদায়ের জন্য আমি কাজ করছি।’

তিনি বলেন, দুর্গাপুরের একজনও প্রকৃত দরিদ্র মানুষ যেন ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন। এজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

এসএ