মানবকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর তিন কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া পরিবারের পাশে ইউএনও
খুলনার দিঘলিয়ায় একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া অসচ্ছল দিনমজুর জাহিদুল ইসলাম ও চাঁদনী বেগম দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মানবকণ্ঠে পরিবারটির অসচ্ছলতা ও নবজাতকদের লালন-পালন নিয়ে অনিশ্চয়তার খবর প্রকাশের পর তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাস গুপ্ত।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ইউএনও উপজেলার পানিগাতি গ্রামে জাহিদুলের বাড়িতে সরেজমিনে যান। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে চাল, ডাল, তেলসহ ৩৬ কেজি শুকনা খাবার এবং নগদ ৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
ইউএনও সুজন দাস গুপ্ত বলেন, ‘একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তান জন্ম নেওয়ার খবর পেয়ে আমি বৃহস্পতিবার রাতে তাদের বাড়িতে যাই। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এই শিশু ও তাদের মায়ের চিকিৎসা এবং লালন-পালনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
এর আগে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রসূতি চাঁদনী বেগমকে উপজেলার পথের বাজার সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। রাত ৯টার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিনি ফাতেমা, আমেনা ও আয়েশা নামে তিন কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে মা ও তিন নবজাতক সুস্থ রয়েছে এবং তারা পানিগাতি গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জাহিদুল-চাঁদনী দম্পতির ১৭ মাস বয়সী রায়হান নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। পেশায় দিনমজুর জাহিদুলের একার সামান্য আয়ে চার সন্তানের ওষুধ, গুঁড়াদুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে সন্তানদের জন্মের আনন্দের পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন পরিবারটি।
উপজেলা প্রশাসনের এই সহায়তায় পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পেলেও তিন নবজাতকের দীর্ঘমেয়াদি লালন-পালনে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানদের সহযোগিতা চেয়েছেন তাদের মা-বাবা ও স্বজনরা।
এনএ




Comments