Image description

বাংলাদেশের গ্রাম-বাংলায় আধুনিক যুগেও অনেক গ্রামীণ জনপদে স্থায়ী পাকা সেতুর অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হচ্ছে মানুষ। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নয়নের ছোঁয়া সবখানে লাগলেও অনেক এলাকায় আজও স্থায়ী ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মিত হয়নি। সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে এসব এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি ও মেরামত করেন।
এই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায় বর্ষার পানি আসার সাথে সাথে এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ এসব বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের কাপালীর মেঠ এলাকায় একটি পাকা ব্রিজের অভাবে বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খালের ওপর তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে হাজারো মানুষ।
ঐ গ্রামে বসবাসকারী রফিকুল ইসলাম কাজলসহ স্থানীয়রা জানান, এই খালটির এক মাথা রামপালে এবং অন্য মাথা মোংলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের কাপালীর মেঠে গিয়ে মিশেছে। এই সাঁকো দিয়েই কাপালীর মেঠ, বুড়িরডাঙ্গা সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ রামপাল ও মোংলায় যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন এই ভাঙাচোরা সাঁকো পার হতে হয়।
বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তখন সাঁকোটি পিচ্ছিল ও আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। অসুস্থ রোগী ও কৃষিপণ্য পরিবহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে দৈনিক মানবকন্ঠের অনুসন্ধানী ক্যামেরায় ধরা পড়ে মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের কাপালির মেঠ গ্রামের বাঁশের সাঁকোর চিত্র।
এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই এই গ্রামের মানুষ বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুল, কলেজ এবং গুরুতর রোগী নিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। বুড়ির ডাঙ্গার কাপালির মেঠ এর সাঁকোর ঐ পার রামপাল পর্যন্ত একটি সেতু হলে তাদের চলাচলের পথ সুগম ও সুবিধাজনক হতো। প্রাচীনকালে এই গ্রামের মানুষ নৌকায় চলাচল করত। সময়ের সাথে সাথে আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামের পাশ দিয়ে রাস্তাটি নির্মিত হওয়ায় এই এলাকার যোগাযোগ সংকট অনেকটা লাঘব হয়েছে।
তবে শুধু খালটি পার হওয়ার জন্য মহাসড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের খালের ওপর গ্রামবাসীর নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রাম বাসীর কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, আমাদের মোংলা - রামপালের এমপি লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম। সে এখন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। আমাদের বিশ্বাস আজ বা কাল তিনি ক্ষমতায় থাকতেই আমাদের গ্রামবাসীর এই সমস্যা সমাধান করবেন।
এসএ