Image description

বাগেরহাটের ফকিরহাটে শৌখিন মৎস্য শিকারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। প্রকৃতির বৈরী আবহাওয়া কিংবা বিরূপ পরিবেশ যেমন তাদের কাছে নস্যি, তেমনই তাদের কাছে পাত্তা পাচ্ছে না পারিবারিক অভাব-অনটনও। আর এই আসক্তিকে পুঁজি করে মোটা অঙ্কের টাকা কামিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণির পুঁজিপতি মৎস্য খামারি। ফলে শখের চেরাগ জ্বালাতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বড়শি বাওয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অনেক সাধারণ পরিবারের সলতে ফুরোনোর দশা তৈরি হয়েছে।

ফকিরহাটের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে এই শখকেন্দ্রিক ব্যবসার ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সপ্তাহের দুই দিন—শুক্রবার ও শনিবার চোখ মেললেই এ দৃশ্য নজরে আসে। মূলত প্রতি বছর শীতকে সামনে রেখে এ অঞ্চলে শুরু হয় বড়শি বাওয়ার আমেজ, যা চলে শীতের শেষ পর্যন্ত। অভাব, অসুস্থতা কিংবা খারাপ আবহাওয়া—কোনো কিছুই থামাতে পারছে না শৌখিনতার লেবাস পরা এসব আসক্ত মৎস্য শিকারিকে। রাত পোহানোর আগেই ছিপ-বড়শি আর খাবার-পানি সাথে নিয়ে এক যুদ্ধংদেহী মেজাজে বের হওয়া এসব 'বৈশ্যেল' দলের হাবভাব দেখলে মনে হয়, তারা যেন কোনো জমিদার বংশের উত্তরসূরি।

ইতিহাস বলছে, শখের এই বড়শি বাওয়া মূলত জমিদারি আমলের সংস্কৃতি। সময়ের পরিক্রমায় জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি ঘটলেও বিলুপ্তি ঘটেনি বৈশ্যেলদের। ফকিরহাটে দিন দিন এই প্রবণতা বেড়েই চলেছে। আর এই বাস্তবতাকে ঘিরে রূপ নিচ্ছে এক কূট-ব্যবসার। পুকুর কিংবা মৎস্য খামারে বড় মাছ থাকুক বা না থাকুক, মোটা অঙ্কের বাজেটে টিকিট বা 'ঘাট' বরাদ্দের বাণিজ্য ঠিকই চলছে। এতে একদিকে যেমন দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের সংসার শিকেয় উঠছে, অন্যদিকে পোয়া বারো হচ্ছে এক শ্রেণির পুঁজিপতি পুকুরমালিক ও খামারির।

সব হারিয়েও বৈশ্যেলদের এই বড়শি বাওয়া যেন কিছুতেই থামছে না। বারবার বড়শি বাইতে গিয়ে সংসারে চরম অভাব ডেকে আনা এক শিকারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এখন আর কোথাও কাঙ্ক্ষিত বড় মাছ মেলে না। যত বড় পুকুরই হোক না কেন, ছোট পোনা ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না। এতে শুধু টাকা ও সময় নষ্ট হচ্ছে, ছারখার হচ্ছে সংসার। এখন বড়শি বাওয়া ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই।”

ডিআর