ছিনতাইকারী ধাওয়া করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত, মাদারীপুরে শোকের মাতম
চট্টগ্রাম নগরীতে ছিনতাইকারী সন্দেহে তিন যুবককে ধাওয়া করার সময় বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালী গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
নিহত আল আমিন সরদার উত্তর দুধখালী গ্রামের আব্দুল হক সরদারের ছেলে। ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। ২০২২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আল আমিন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ অর্ডার ম্যানেজমেন্ট শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং কোতোয়ালি থানায় সংযুক্ত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে করেন আল আমিন। তার সংসারে রয়েছে আড়াই মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী ও ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা
সোমবার ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল আমিনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির।
আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদারকে দাফন করা হয়।
আল আমিনের বাবা আব্দুল হক সরদার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি জানান। পরিবারের পক্ষ থেকেও ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শোকাহত আল আমিনের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমার আড়াই মাসের অবুঝ সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব, কী করব? আমার এখন কী হবে! আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।"
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, "আল আমিনের পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে তার পরিবারের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।"
ডিআর




Comments