রেশম কারখানা জিম্মি করে নেতাগিরি চলবে না: ভূমিমন্ত্রী
১৫ লুম চালু, শিগগিরই ২৫টিতে উন্নীত করার ঘোষণা
রাজশাহী রেশম কারখানা জিম্মি করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল কিংবা শ্রমিক রাজনীতির নামে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, কারখানা জিম্মি করে কোনো নেতাগিরি চলবে না। প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে যারা ভূমিকা রাখবেন, কেবল তাদেরই এখানে কাজ করার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজনে নিজের রক্ত বিক্রি করে হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশে দাঁড়াবেন, তবে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে এমন কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী রেশম কারখানা চত্বরে আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তুঁতচারা রোপণ এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ১৫টি পাওয়ার লুম পুনরায় চালুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উৎপাদন বাড়িয়ে ২৫ লুম চালুর পরিকল্পনা
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী রেশম কারখানা এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও বহু পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বর্তমানে কারখানার ১৫টি লুম সচল করা সম্ভব হয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে শিগগিরই সচল লুমের সংখ্যা ১৫ থেকে ২৫টিতে উন্নীত করা হবে।
তিনি বলেন, কারখানার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানুষের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ জড়িত। তাই সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
অন্যায্য নেতৃত্ব ও স্বজনপ্রীতি বরদাশত নয়
শ্রমিক রাজনীতির নামে কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত করার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, কারখানাকে জিম্মি করে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও তাতে স্থায়ী কল্যাণ আসবে না। বরং এর নেতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর পড়বে। এ জন্য সংকীর্ণ স্বার্থ ও অন্যায্য নেতৃত্বের মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনে স্বজনপ্রীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজের সন্তান কিংবা পরিবারের সদস্যের চাকরির সুপারিশ নিয়ে কোনো সংসদ সদস্য বা ঘনিষ্ঠজন ফোন করলেও তিনি অন্যায্য সুবিধা দেবেন না। যোগ্যতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই দায়িত্ব বণ্টন করতে হবে।
দীর্ঘ ৪২ বছর সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভূমিমন্ত্রী বলেন, বয়স ও শারীরিক বাস্তবতায় একসময় নতুন ও যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াই স্বাভাবিক নিয়ম। ভালোবাসা ও ভালো ব্যবহার দিয়ে সবার মন জয় করতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনো অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
তুঁতচারা রোপণ, বাড়বে কাঁচামালের জোগান
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদ। বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈসা।
এ ছাড়া রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ব্যবসায়ী মো. আসলাম সরকার ও মো. আশরাফ জামালসহ বোর্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, গবেষক এবং রেশম চাষসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী রেশম কারখানায় মোট ৪২টি লুম রয়েছে। বন্ধ লুমগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিল্ক কাপড়ের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় তাঁতিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিও এ উদ্যোগের লক্ষ্য। অন্যদিকে, রেশম গুটি উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল তুঁতপাতার টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে কারখানা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় তুঁতচারা রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
এসএ




Comments