ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর এলাকায় অবস্থিত জনতার বাজারে অবৈধভাবে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। দ্রুত হাটটি অপসারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর এলাকার জনতার বাজারে প্রতি শনিবার অবৈধভাবে পশুর হাট বসিয়ে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন পশু কেনাবেচা করা হচ্ছে। ওই হাটে প্রায় দুই থেকে তিন হাজার গরু-ছাগল ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধ রসিদের মাধ্যমে পশু বিক্রেতাদের কাছ থেকে হাসিল আদায় করছেন।
হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় এবং গরু-ছাগলবাহী গাড়ি থেকে পশু ওঠানামার কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এ পথে চলাচলকারী যাত্রীদের স্বাভাবিক যাতায়াত বিঘ্নিত হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
শনিবার সকালে সরেজমিনে জনতার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বিপুলসংখ্যক গরু-ছাগল নিয়ে হাট বসেছে। পশু কেনার জন্য হাজারো ক্রেতার সমাগম ঘটেছে। সড়ক থেকে পশুবাহী যানবাহনে গরু ওঠানো-নামানোর সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চলাচলকারী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও দুর্ভোগে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও হাটটি অপসারণের উদ্যোগ নিতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা হাট পরিচালনাকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি হাটের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরাও হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন।
নবীগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা বাদল আহমেদ বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জোরপূর্বক অবৈধভাবে এ পশুর হাট বসাচ্ছেন। মহাসড়কসংলগ্ন হওয়ায় ক্রেতাদের সড়ক পারাপার এবং ট্রাক থেকে গরু নামানোর সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন আটকে পড়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। শুধু যানজটই নয়, এ কারণে আগেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় জনতার বাজার থেকে পশুর হাটটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী জানান, অবৈধ পশুর হাটের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁরা হাট পরিচালনাকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রভাবশালীরা নিজেদের ক্ষমতার জোরে হাটটি পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, হাটটি অপসারণ করা হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হোসেন বলেন, এর আগে হাটটি অপসারণের উদ্যোগ নিতে গিয়ে পুলিশ, সাংবাদিকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা হামলার শিকার হয়েছেন। বর্তমানে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর হাট পরিচালনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক সিদ্ধান্ত দেবেন।
নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তিনি এখানে নতুন যোগদান করেছেন। এ হাট সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না। তবে হাটটি সরকারি পক্ষ থেকে ইজারা দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানেন।
এসএ




Comments