Image description

‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবে’ এবং ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’—পরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন দুটি বিষ্ফোরক স্ট্যাটাস দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এই দুটি পোস্ট দেন তিনি।

ঘটনার পর পর ওই রাতেই তাঁকে চরম অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক সংবাদমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তানের জন্মদিনের পারিবারিক অনুষ্ঠানে স্ত্রীসহ আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান। পোস্ট দেওয়ার মাত্র ছয় মিনিট আগেও তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ইউএনওর বাসাতেই ছিলেন। বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে দায়ী করে এমন স্ট্যাটাস দেওয়া দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন ইউএনও।

ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের ভাষ্য, “কেন তিনি আমাকে দায়ী করে এমন স্ট্যাটাস দিলেন, তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরলে বিস্তারিত আলোচনা করে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হবে।”

ফেসবুক পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলীসহ পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ছোটেন। সেখানে তাঁকে মানসিকভাবে চরম অস্থির ও অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক গিয়ে চিকিৎসা ও ওষুধ দেন। তবে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁর স্ত্রী দ্রুত তাঁকে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক আরিফুর রহমানের স্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, এসিল্যান্ড আগে থেকেই কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। তা ছাড়া, প্রায় তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর দৃশ্য দেখার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে রাতারাতি তিনি বাসভবনের এক আনসার সদস্যকে মারধর করা এবং ইউএনওর মেয়েকে নিয়ে আপত্তিকর হুমকির মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলে উপজেলা প্রশাসন।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে থাকতেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর ব্যবহৃত অফিসিয়াল মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় এসব অভিযোগ ও ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে সরাসরি তাঁর বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

পুরো ঘটনাটি নিয়ে পুরো সুনামগঞ্জ জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার সার্বিক বিবরণ জানিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ডিআর