Image description

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, স্বনির্ভরতা অর্জন ও স্বাস্থ্যসেবায় অকুপেশনাল থেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরে ঢাকার সাভারে বিশ্ব অকুপেশনাল থেরাপি দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় সরকারি হাসপাতালগুলোতে অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের প্রথম শ্রেণির পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের মাধ্যমে এ সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সাভারের সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

বাংলাদেশ অকুপেশনাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের (বিওটিএ) উদ্যোগে এবং সিআরপি ও বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউটের (বিএইচপিআই) সহযোগিতায় দিবসটি উদযাপন করা হয়। বিশ্বের ১১৭টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক ডা. ভ্যালেরি অ্যান টেইলর। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআরপির পরিচালক ড. মো. সোহরাব হোসেন ও বিএইচপিআইয়ের অধ্যক্ষ ডা. রুহি বনানী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএইচপিআইয়ের অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগের প্রধান, বিওটিএর সভাপতি অধ্যাপক এস কে মনিরুজ্জামান। তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন, দক্ষ অকুপেশনাল থেরাপিস্ট তৈরিতে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় তাঁদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রথম শ্রেণির পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের মাধ্যমে অকুপেশনাল থেরাপি সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

শোভাযাত্রায় অকুপেশনাল থেরাপির শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, সমাজকর্মী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অকুপেশনাল থেরাপির গুরুত্ব, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার এবং সমাজে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বার্তা তুলে ধরা হয়।

এদিকে, একই দিন সকাল ১১টায় সিআরপির মিরপুর কেন্দ্রে ‘অংশগ্রহণই গুরুত্বপূর্ণ’ (Participation Matters) প্রতিপাদ্যে ‘স্বাস্থ্যসেবায় অকুপেশনাল থেরাপি অপরিহার্য’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার। তিনি মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, দৈনন্দিন কাজে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অকুপেশনাল থেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন।

সভায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় প্রধান ডা. হাসান হাবিবুর রহমান অগ্নিদগ্ধ রোগীদের পুনর্বাসনে অকুপেশনাল থেরাপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইয়ামিন শাহরিয়ার চৌধুরী অটিজম, সেরেব্রাল পালসিসহ বিভিন্ন স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের বিকাশে এ থেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিআরপির অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগের প্রধান ও বিওটিএর যুগ্ম সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পেশাগত স্বীকৃতি ও নিবন্ধন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বক্তারা বলেন, স্ট্রোক, মেরুরজ্জুতে আঘাত, হাড়ভাঙা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসমস্যা এবং স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অকুপেশনাল থেরাপি সেবার সম্প্রসারণ জরুরি। এ সেবা মানুষের দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে।

তাঁরা আরও বলেন, দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য পুনর্বাসন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলের কার্যকর বাস্তবায়ন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা জরুরি।

দিবসটি উপলক্ষে সিআরপির সাভার প্রধান কার্যালয় ও ১৩টি শাখাসহ দেশের বিভিন্ন অকুপেশনাল থেরাপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পুনর্বাসন স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

দিবসটি সফলভাবে আয়োজন ও প্রচারে সহযোগিতা করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আয়োজকেরা।

এসএ