আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুই মাসের মধ্যে কারখানার কাজ শুরুর লক্ষ্য
আগামী দুই মাসের মধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার। প্রকল্পের আওতায় আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালুর লক্ষ্যে দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে আনোয়ারার বৈরাগ এলাকায় প্রস্তাবিত চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।
বিজন কান্তি সরকার বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দ্রুত কাজ শুরুর উপায় নির্ধারণ এবং প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতেই এ পরিদর্শন। প্রধানমন্ত্রী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা উদ্বোধনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুততম সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম কারখানা চালু করা সম্ভব হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার ও পরিচালক নুর জাহান খানম উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং চায়না ইকোনমিক জোনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী।
সভায় ওয়াসা, পল্লী বিদ্যুৎ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় দ্রুত কাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিজন কান্তি সরকার জানান, আনোয়ারার বৈরাগ এলাকায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠা হবে। এ প্রকল্পে চীনের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়ন করবে।
মতবিনিময় সভা শেষে অতিথিরা চায়না ইকোনমিক জোনের অফিস ভবনের সামনে নিমগাছের চারা রোপণ করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি কেইপিজেডের নিজস্ব হাসপাতাল, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও গার্মেন্টস কারখানা ঘুরে দেখেন। গত মঙ্গলবার রাতে তিনি কেইপিজেডে পৌঁছান। পরে কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন শেষে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম ইপিজেড (সিইপিজেড) পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা হন।
চায়না ইকোনমিক জোনে শিল্পকারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হলে আনোয়ারাসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ডিআর




Comments