Image description

বাগেরহাটের মোংলায় ক্লোন করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে বিকাশ ও নগদের সিম উত্তোলন করে সংঘবদ্ধ প্রতারণার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১টি মোবাইল ফোন ও ২০টি সিম উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মোংলার চিলা বাজার এলাকার দুই বিকাশ ও নগদ ব্যবসায়ীর ব্যবসায়িক সিমকে টার্গেট করে প্রতারকচক্রটি আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্লোন করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে তিনটি সিম উত্তোলন করে। পরে ওই সিমগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করা হয়। এভাবে চক্রটি প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি নজরে আসার পর তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারকচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। জেলা পুলিশ ও এসআরবির সমন্বয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত মোট ৯ জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সংশ্লিষ্ট সিম পরীক্ষা করে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা আলামত ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আটক ব্যক্তিদের ঘটনার সঙ্গে প্রাথমিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৮, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় মোংলা থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর-০১ এবং তারিখ ১ জুলাই ২০২৬।

বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এসএ