মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সুদহার বাড়ালে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়ালে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। কেননা সুদের হার বাড়ালে মূল্যস্ফীতি কমবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিছু সমস্যা থাকলেও বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। কেননা সুদের হার বাড়ালে মূল্যস্ফীতি কমার নিশ্চয়তা নেই। উল্টো বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট ২০২৩’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।মো. জসিম উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের যে অর্থনীতি ছিল তার সঙ্গে আজকের অর্থনীতির পার্থক্য অনেক। বর্তমানে আমাদের অর্থনীতির আকার ৪৭০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতির এই গতি আরও ত্বরান্বিত করতে এই সামিটের আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্ভাবনা বিশ্বের কাছে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, সরকার টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্যে দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে অবকাঠামোর উন্নয়ন করছে। অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার ‘বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’কে গুরুত্ব দিচ্ছে। সুতরাং এখনই সময় বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার। এখনই সময় ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে যাত্রা ত্বরান্বিত করার।
বাংলাদেশ এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশে যেসব বিদেশি কোম্পানি কাজ করছে তারা ব্যবসায় সাফল্য অর্জন করেছে। এ জন্য তারা আরও বেশি বেশি বিনিয়োগ করছে। তা ছাড়া আমাদের দেশীয় বাজার অনেক বড়। সুতরাং সময় এসেছে এখন বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, শিল্প বিকাশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এতে আমাদের কোনো হাত নেই। তবে একসঙ্গে বিদ্যুতের দাম এত বাড়ানোয় ব্যবসায়ীদের ওপর কিছুটা হলেও চাপ পড়েছে। এটা ধাপে ধাপে বাড়ালে এতটা প্রভাব পড়ত না। অবশ্য আগামীতে আন্তর্জাতিকভাবে দাম কমলে দেশেও দাম কমবে-সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের এ বিষয়ে আশ^স্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের আয়োজন করতে যাচ্ছে এফবিসিসিআই। ১১-১৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই সামিটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করতে এই সামিট বিশেষ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এই সামিট আয়োজনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ। বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক, বাজার বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তুলে ধরতে এই আয়োজন অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, বাধা এবং উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করতে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিশ্লেষক এবং নীতিনির্ধারকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ৩টি প্ল্যানারি সেশন, ১৩টি প্যারালাল সেশন, উন্মুক্ত আলোচনা, বিটুবি মিটিং, নেটওয়ার্কিং সেশন প্রভৃতি।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের ১২ থেকে ১৫টি দেশের মন্ত্রী অংশ নেবেন বলে আমরা আশা করছি। পাশাপাশি কয়েকটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এবং ইইউর ট্রেড কমিশনারকেও আনার চেষ্টা চলছে। তা ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৃহৎ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কেননা টেকসই শিল্পায়নের লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার ‘বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। সুতরাং এখনই সময় বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার। এখনই সময় আমাদের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে যাত্রাকে ত্বরান্বিত করা।
সামিটের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘সিএনএন এক্সপেরিয়েন্স’ যার মাধ্যমে বিখ্যাত টিভি চ্যানেল কেবল নিউজ নেটওয়ার্ক-সিএনএন দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ, বিনিয়োগের সুযোগ এবং ভবিষ্যতের টেকসই উন্নয়নের ওপর প্রচারণা চালাবে। সামিটে সিএনএনের বিজনেস এডিটর-অ্যাট-লার্জ রিচার্ড কোয়েস্টের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সহযোগিতায় এই সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমাদের এই আয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিডাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে আমরা দারুণ সাড়া পেয়েছি। তারাও আমাদের সহযোগিতার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।
তিনি জানান, বাংলাদেশে উৎপাদিত সেরা পণ্যগুলোকে সামিটে উপস্থাপন করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশেষ অবদানের জন্য উদ্যোক্তাদের মধ্যে ‘বিজনেস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি এমএ মোমেন, মো. আমিন হেলালী, সালাউদ্দিন আলমগীর, হাবীব উল্লাহ ডন, পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ বিজনেস সামিটের প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা ড. এম. মাশরুর রিয়াজ, এফবিসিসিআই পরিচালকবৃন্দ, মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




Comments