যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উন্নতির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময়ের জন্য উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে— এমন ধারণায় বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৯৩ ডলারে নেমে আসে। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহে সোনার দাম প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও ২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৯০ দশমিক ৭০ ডলারে অবস্থান করছে।
মার্কিন শ্রম বিভাগের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের (বিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিখাত-বহির্ভূত (নন-ফার্ম পেরোল) কর্মসংস্থান বেড়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার। এর আগে এপ্রিল মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবটিও সংশোধন করে ১ লাখ ৭৯ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে।
টিডি সিকিউরিটিজের বৈশ্বিক পণ্য কৌশল বিভাগের প্রধান বার্ট মেলেক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও মূল্যস্ফীতির কারণে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা খুবই কম। এর ফলে স্বর্ণ ধরে রাখার ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রুপার দাম ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৬৯ দশমিক ৩৪ ডলার, প্লাটিনাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৩৯ দশমিক ৪০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৯৫ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমেছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে পতন হলেও দেশের বাজারে সোনার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments