Image description

শুক্রবার (৫ জুন) দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সময় আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনায় সাত জেলায় ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক স্কুলছাত্র, বাবা-মেয়ে এবং বেশ কয়েকজন কৃষক রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনাই ঘটেছে মাঠে কৃষিকাজ করার সময় কিংবা বৃষ্টির মধ্যে গবাদিপশু আনতে গিয়ে।

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় বজ্রপাতে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে অন্য এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাওয়ার পথে অটোরিকশা থেকে নামার সময় বজ্রপাতে মো. খালিদুল ইসলাম (৩০) এবং তার ১০ বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা আক্তারের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতের তীব্রতায় খালিদুলের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটিতে আগুন ধরে যায় বলে জানা গেছে।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় বাড়ির পাশের মাছের ঘেরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে তানভীর খান (১৮) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জুমার নামাজের আগে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হয়ে মারা যান নবী হোসেন মিজি (২৭) নামের এক দিনমজুর।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বরগুনার সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে মাঠে মাটি কাটার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান মহিউদ্দিন (৪০) নামের এক কৃষক। পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দুমকি উপজেলায় বৃষ্টিতে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে আলমগীর সরদার (৪৫) এবং মজিবর সরদার (৫০) নামের দুই কৃষক মারা যান।

একইভাবে, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে যথাক্রমে মুছা হাওলাদার (৪৫) ও ছোয়ারাব জোমাদ্দার (৫০) নামের দুই কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা এসব মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/আরআই