Image description

ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে রূপকথার এক জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফিফা প্রীতি এই ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। একইসঙ্গে এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে সফল অভিষেক হলো জার্মান কোচ থমাস ডুলির।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ১৭তম মিনিটে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার একটি আক্রমণ প্রতিপক্ষের রক্ষণে আটকে গেলেও, লিড পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে শেখ মোরছালিনের চমৎকার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে লক্ষ্যভেদ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন তপু। তবে ৩১তম মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণের ভুলে সমতায় ফেরে সান মারিনো। ডান দিক দিয়ে বেরার্দির কাটব্যাক থেকে বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে স্বাগতিকদের হয়ে গোলটি শোধ করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি। বিরতির ঠিক আগে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও সুযোগ হাতছাড়া করলে ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে রণকৌশলে বদল আনেন কোচ ডুলি। একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনে মাঠে নামান সমিত সোম, জায়ান আহমেদ, বিশ্বনাথ ঘোষ ও কাজেম শাহ কিরমানিদের। এই অর্ধেও বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের আসল নাটকীয়তা অপেক্ষা করছিল শেষ দিকের জন্য। ৮৬তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হামজার নেওয়া ফ্রি-কিক ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় সান মারিনোর রক্ষণভাগ। সেই সুযোগে বদলি খেলোয়াড় বিশ্বনাথ ঘোষের সাইড ভলি থেকে পাওয়া বল দারুণ এক হেডে জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের জয়সূচক গোলটি করেন তপু।

ম্যাচ জেতানো এই গোলের পর জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে ২-১ গোলের অবিস্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।

মানবকণ্ঠ/আরআই