উন্নত ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা এবং কৃষি খাতে বড় ধরনের শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত এই বাজেটে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে বিলাসী পণ্য ও তামাকজাত পণ্যের ওপর বাড়তি কর আরোপ করা হয়েছে।
দাম কমছে যেসব পণ্যের
তথ্যপ্রযুক্তি ও শিক্ষা
আইটি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এছাড়া কম্পিউটারের এসএসডি ও পস মেশিনের দামও কমতে পারে।
চিকিৎসা সেবা
কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর ভ্যাট ও অগ্রিম কর প্রত্যাহারের ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিসে প্রায় ৮০০ টাকা খরচ কমবে। হার্টের রিংয়ের দাম কমতে পারে প্রায় ২০ হাজার টাকা। এছাড়া চোখের লেন্স, ক্যান্সারের ওষুধ এবং মৃতদেহ সংরক্ষণের সরঞ্জামের (মর্চুয়ারি) দামও কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ায় সাধারণ ওষুধের দামও কমতে পারে।
খাদ্য ও নিত্যপণ্য
খেজুর আমদানির ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক এবং দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গসহ বিভিন্ন মসলার শুল্ক তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিশুখাদ্য তৈরির কাঁচামালে শুল্ক কমানোর ফলে বাজারে গুঁড়ো দুধসহ বিভিন্ন শিশুখাদ্যের দাম কমতে পারে।
পরিবহন খাত
পরিবেশবান্ধব যাতায়াত উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক গাড়ি (ইভি) ও হাইব্রিড গাড়ির ওপর করভার ব্যাপকভাবে কমানো হয়েছে। এছাড়া ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কৃষি ও মৎস্য খাত
সার, কীটনাশক এবং পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও খামারিদের ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দাম বাড়ছে যেসব পণ্যের
নির্মাণ সামগ্রী
নতুন অর্থবছরে বাড়ি তৈরির খরচ বাড়তে পারে। এমএস রড ও জাতীয় পণ্যের ওপর ভ্যাট ও কর প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
তামাক ও মদ
ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের ফিল্টার ও নিকোটিনের ওপর উচ্চহারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। উচ্চস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ২১০ টাকা হতে পারে। এছাড়া দেশে উৎপাদিত মদের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলাসী ও আমদানিকৃত পণ্য
আমদানিকৃত উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ ও বিলাসী খাবারের ওপর বাড়তি ভ্যাট বসতে পারে। দেশীয় চাষীদের সুরক্ষায় আমদানিকৃত কাজুবাদামের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাবগুলো সরাসরি কার্যকর হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত এর সুফল পাবেন। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর তদারকি না থাকলে এই ছাড়ের সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments