Image description

বলিউডের এমন কিছু হাসির সিনেমা রয়েছে, যেগুলোর গল্পের চেয়ে চরিত্রগুলোই দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। সময় পেরিয়ে গেলেও সেসব চরিত্রের সংলাপ, কাণ্ডকারখানা কিংবা হাসির দৃশ্য ফিরে আসে আলোচনায়। ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মালামাল উইকলি’ও তেমনই একটি সিনেমা। প্রায় দুই দশক পর এবার সেই জনপ্রিয় সিনেমার সিক্যুয়াল নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আর নতুন কিস্তিতে যুক্ত হচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া।

গ্রাম্যজীবনের সরলতা, মানুষের লোভ, ভুল বোঝাবুঝি এবং একের পর এক মজার পরিস্থিতি নিয়েই তৈরি হয়েছিল ‘মালামাল উইকলি’। মুক্তির পর সিনেমাটি বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি দর্শকের মধ্যেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। নানা পাটেকর, রীতেশ দেশমুখ, পরেশ রাওয়াল, রাজপাল যাদব ও শক্তি কাপুরসহ একঝাঁক অভিনয়শিল্পীর প্রাণবন্ত অভিনয় সিনেমাটির হাস্যরসকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছিল।

সিনেমাটির গল্পে সাধারণ গ্রামীণ মানুষের জীবন, অর্থের প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং হঠাৎ পাওয়া বিপুল সম্পদকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা জটিলতা হাসির আবহে তুলে ধরা হয়েছিল। ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি থেকে একের পর এক বড় পরিস্থিতির সৃষ্টি এবং সেখান থেকেই হাসির জন্ম ছিল সিনেমাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এবার সেই গল্পের জগতেই নতুন করে ফিরতে যাচ্ছে ‘মালামাল উইকলি’। তবে সিক্যুয়ালে থাকছে বেশ কিছু পরিবর্তন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে পরিচালকের আসনে। প্রথম সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন প্রিয়দর্শন। নতুন কিস্তির দায়িত্বে থাকছেন না তিনি। সিনেমাটি পরিচালনা করবেন অমিত জোশি।

‘তেরে বাতোঁ ম্যায় অ্যায়সে উলঝা জিয়া’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া অমিত জোশির জন্য এটি হতে যাচ্ছে একেবারেই ভিন্ন ধরনের কাজ। তার পরিচালনায় ‘মালামাল উইকলি’র নতুন কিস্তিতে পুরোনো হাস্যরসের ধারা কতটা ধরে রাখা সম্ভব হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

নতুন কিস্তির অন্যতম আকর্ষণ পরিণীতি চোপড়ার সংযোজন। রোমান্টিক গল্প থেকে শুরু করে হাস্যরসাত্মক ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন এই অভিনেত্রী। তাই চরিত্রনির্ভর কমেডি সিনেমাটিতে তাকে কী ধরনের ভূমিকায় দেখা যাবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

তবে পরিণীতির চরিত্র সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মূল গল্পের কোন পর্যায়ে তার চরিত্র যুক্ত হবে কিংবা গল্পে তার গুরুত্ব কতটা, সেটিও গোপন রাখা হয়েছে। ফলে নতুন কিস্তিতে তার উপস্থিতি কী ধরনের চমক তৈরি করবে, তা জানতে দর্শকদের অপেক্ষা করতে হবে।

প্রায় ২০ বছর পর ‘মালামাল উইকলি’র সিক্যুয়াল তৈরির খবরে পুরোনো দর্শকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ফিরে এসেছে নস্টালজিয়া। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে সিনেমাটিকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুরোনো চরিত্র ও হাসির আবহের সঙ্গে নতুন গল্প, নতুন নির্মাতা এবং পরিণীতি চোপড়ার সংযোজন মিলিয়ে ‘মালামাল উইকলি’র নতুন কিস্তি যে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা বলাই যায়। এখন অপেক্ষা, দুই দশক আগের সেই হাসির জাদু নতুন গল্পে কতটা ফিরিয়ে আনতে পারে সিক্যুয়ালটি।

এমআর