Image description

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মনির খানের কালজয়ী গান ‘বাবা তোমার ছেলে আজ বড় হয়েছে’। বাবা ও সন্তানের আবেগ, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটেছে গানটিতে। তবে গানটি শুধু কল্পনার গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিল্পীর নিজের জীবনের সংগ্রাম ও বেদনাময় স্মৃতি।

গানের কথায় উঠে এসেছে শূন্য থেকে একজন শিল্পীর সফল হয়ে ওঠার গল্প। গানের চর্চার জন্য বাবার কাছ থেকে হারমোনিয়াম পাওয়া, স্থানীয় মানুষের বাধা, মামলা, কারাবাস এবং বাড়িতে হামলার মতো ঘটনাও রয়েছে সেই গল্পে। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এসব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন মনির খান।

শিল্পী জানান, ছোটবেলা থেকেই তার গানের গলা ভালো ছিল। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে না বুঝেই প্রথম হয়ে যেতেন তিনি। ছেলের প্রতিভা দেখে শিক্ষক বাবা মাহবুব আলী খান তাকে গান শেখানোর সিদ্ধান্ত নেন। এসএসসি পরীক্ষার পর ছেলেকে একটি হারমোনিয়াম কিনে দেন তিনি। সেই হারমোনিয়াম নিয়েই গানের চর্চা শুরু করেন মনির।

তবে বাড়ির পাশেই মসজিদ থাকায় গানের চর্চা নিয়ে স্থানীয় অনেকের বিরোধিতার মুখে পড়তে হয় তাকে। একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে সাত-আটটি মামলা হয়। পালিয়ে থাকতে হয়েছে, কারাগারেও যেতে হয়েছে বলে জানান এই শিল্পী।

মনির খানের ভাষ্য, সামাজিক ও ধর্মীয় বাধার মধ্যেও তার বাবা সব সময় পাশে ছিলেন। ছেলের প্রতিভাকে সামনে এগিয়ে নিতে যত বাধাই আসুক, তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি।

গানের চর্চাকে কেন্দ্র করে একবার মনির খানের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। সে সময় তিনি হারমোনিয়াম বুকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার বাবা। এতে বাবার পিঠেও আঘাত লাগে এবং হারমোনিয়ামের একটি অংশ ভেঙে যায়। সেই ভাঙা হারমোনিয়াম মেরামত না করে স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন মনির খান।

গ্রামে নানা বাধা ও গানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে একসময় ঢাকায় আসেন তিনি। বাবার জমানো ৪০ হাজার টাকা ছিল সঙ্গে। যোগাযোগ করেন গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মিল্টন খন্দকারের সঙ্গে, যাকে নিজের ‘সংগীত পিতা’ বলে মানেন মনির খান।

শিল্পীর ভাষ্য, মিল্টন খন্দকার সেই ৪০ হাজার টাকা নেননি; বরং তাকে গড়ে তোলার দায়িত্ব নেন। একদিন বাবার ওপর হামলার ঘটনাসহ নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা মিল্টন খন্দকারকে জানান মনির। ঘটনাটি শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

কয়েক দিন পর মিল্টন খন্দকার তাকে একটি গান শোনান। কথাগুলো ও সুর পছন্দ হওয়ায় গানটি মনির খানের কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়। ডেমো ভয়েসে রেকর্ড করা ক্যাসেট নিয়ে বাড়ি ফিরে বাবাকে গানটি শোনান তিনি।

মনির খান জানান, গানটি শোনার পর তার বাবা আনন্দিত হন। পরে ক্যাসেট প্লেয়ার নিয়ে এলাকার মানুষের কাছে গিয়ে ছেলের গান শোনাতেন এবং তাকে নিয়ে গর্ব করতেন।

মনির খানের বাবা মাহবুব আলী খান ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি মারা যান। বাবার শেখানো আদর্শ ও দিকনির্দেশনা মেনেই এখনো পথ চলছেন বলে জানান এই শিল্পী।

এনএ