মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে সোনার খনি ধসে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের জাম্বোয়ে গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গ্রামটি বাবুয়া শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এবং ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
স্থানীয় সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, খনিতে কাজ করার সময় কয়েকটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে বহু মানুষ মাটির নিচে আটকা পড়েন। তবে সরকারি বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
উদ্ধারকাজে যুক্ত রেড ক্রসের স্বেচ্ছাসেবক জেরভাইস গ্যানাগোরোহ বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, ধসে পড়া খনি থেকে শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় একটি খনি সমিতির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও রয়টার্সকে নিহতের সংখ্যা শতাধিক বলে নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি জীবিতদের সন্ধান করছেন। খনিতে ঠিক কতজন শ্রমিক ছিলেন, তা এখনো জানা যায়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধসে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ও ক্যামেরুনের নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্যামেরুনের পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় দেশটির অন্তত তিন নাগরিক নিহত হয়েছেন।
জাম্বোয়ে যুব পরিষদের সদস্য বার্ট্রান্ড বে ইয়াঙ্গে বলেন, ধসে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম। দুর্ঘটনায় তরুণ-তরুণীদের প্রাণহানিতে স্থানীয় বাসিন্দারা গভীরভাবে শোকাহত।
উদ্ধারকাজে ট্রাক্টরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে মাটির নিচে কেউ জীবিত থাকলে ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছোট পরিসরের সোনার খনিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বেকারত্বের কারণে অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত খনিতে কাজ করেন। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে চলতি বছর বিভিন্ন খনি দুর্ঘটনায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এসএস




Comments