Image description

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতকে যুদ্ধ বলতে নারাজ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পূর্ণমাত্রার লড়াই না থাকায় তিনি এটিকে যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন না বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটিকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে চীন সহযোগিতা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। খবর নিউইয়র্ক পোস্টের।

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, আমি এটিকে যুদ্ধ বলব না। এই মুহূর্তে সক্রিয়ভাবে গোলাগুলি চলছে না। সংঘাতের কিছু জায়গায় উত্তেজনা বেড়েছিল। তবে বড় ধরনের সামরিক অভিযান প্রায় ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিল।

রিপাবলিকানদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, চলমান সংঘাত আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম উচ্চ থাকলে এর প্রভাব আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন দলটির অনেকে।

সংঘাত কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে ভ্যান্সও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনার চেষ্টা করছেন। অথচ যুদ্ধ শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত প্রায় চার সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।

ভ্যান্স বলেন, ‘ধরুন, আমি আপনাদের বললাম তিন মাস। আবার ধরুন, বললাম তিন দিন। এরপর ইরানিরা তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ উড়িয়ে দিতে শুরু করল এবং যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যার সক্ষমতা রয়েছে এসব জাহাজকে নিরাপদে বাজারে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার। এমন পরিস্থিতিতে এমন একটি দেশের জন্য আমাদের কৌশল ও সময়সীমা প্রকাশ করা দায়িত্বশীল কাজ হবে না, যে দেশ নিজের প্রতিশ্রুতিই রাখতে পারে না।’

ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে মনে করেন ভ্যান্স। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে দেশটির আর্থিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগকে তিনি সমর্থন করছেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর মাধ্যমে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমি মনে করি, চীনের সরকার এখানে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।’

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনকে যা যা করতে বলেছে, তার সবকিছু বেইজিং করছে; এমন দাবি তিনি করছেন না। কিন্তু ইরানসহ আরও কয়েকটি দেশের তুলনায় চীন অনেক বেশি দায়িত্বশীল আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চীনের সহযোগিতার বিষয়টি চলতি মাসের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হোয়াইট হাউস সফরের সময় আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত সপ্তাহে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন শি। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ওই বৈঠকের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

ইরানের সঙ্গে শির এই সীমিত যোগাযোগকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে চীনের তেহরান থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের তেল রপ্তানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। তবে এসব তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করতে হয়। যুদ্ধ শুরুর পর ওই পথে ইরানের তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে চীন নিজেদের বিশাল তেল মজুত থেকে সরবরাহ নিয়ে ঘাটতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সূত্র : নিউইয়র্ক পোস্ট
এমআর