'ইহুদি উগ্রপন্থীদের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে'
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি উগ্রপন্থীদের হামলা ও ঘৃণাজনিত অপরাধ যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে সতর্ক করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
ইসরায়েলি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
হাকাবি বলেন, ইসরায়েলের এখন যত বেশি সম্ভব বন্ধুর প্রয়োজন, নতুন করে শত্রু তৈরি করার কোনো প্রয়োজন নেই। পশ্চিম তীরে ইহুদি উগ্রপন্থীদের সহিংস কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হচ্ছে, তা তিনি গুরুতর বলে উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও ইসরায়েলকে ঘিরে নেতিবাচক ধারণার প্রভাব গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ আমেরিকানরা ইসরায়েল সম্পর্কে কী শুনছে, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি অধিকৃত গাজার পশ্চিম তীরের বাজরিয়া গ্রামের একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর হাকাবিকে লক্ষ্য করে দেয়ালে আপত্তিকর গ্রাফিতি লেখা হয়।
এর আগে গত মাসে পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালানো ইহুদি দাঙ্গাকারীদের ইসরায়েলি সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন হাকাবি। তার ওই মন্তব্যের পর বাজরিয়ার মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনায় হামলাকারীরা দেয়ালে লেখে— ‘হাকাবি, সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।’
হাকাবি জানান, ওই গ্রাফিতি তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিচলিত করেনি। তবে এ ধরনের ঘটনার সামগ্রিক প্রবণতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তার মতে, পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও ঘৃণাজনিত অপরাধের ঘটনা ক্রমেই ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
সাক্ষাৎকারে ইরান প্রসঙ্গেও কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। হাকাবির দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
হাকাবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের হুমকি দীর্ঘদিনের এবং এটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি উগ্রপন্থীদের সহিংসতার বিষয়টি এখন ওয়াশিংটনের জন্যও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। হাকাবির সর্বশেষ মন্তব্যে সেই উদ্বেগই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
এমআর




Comments