কয়েক দিনের কূটনৈতিক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর নিশ্চিত করেছে বেইজিং। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে অংশ নেবেন তিনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে শি জিনপিংয়ের ভারত সফর নিয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন।
শি জিনপিংয়ের এই সফর ভারত-চীন সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম ভারত সফরে যাচ্ছেন তিনি। ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওই সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন।
২০১৯ সালে চীনা প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ ভারত সফরে চেন্নাইয়ের কাছে মামাল্লাপুরমে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছিল। এর আগে ২০১৪ সালে মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বের শুরুতে ভারত সফর করেন শি। ২০১৬ সালে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনেও তিনি অংশ নেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির দিকে এগিয়েছে। বিশেষ করে গত বছর মোদীর চীন সফরের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত ও চীন—উভয় দেশের সম্পর্কেই বিভিন্ন টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপ করা কিছু বিধিনিষেধও ধীরে ধীরে শিথিল করেছে ভারত। ইলেকট্রনিকস, মূলধনী পণ্য ও সৌরকোষসহ কয়েকটি খাতে এ পরিবর্তন দেখা গেছে।
রয়টার্সকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদী মনে করেন, ভারত ও চীন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’। দুই দেশ পরস্পরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
তবে সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু সন্দেহ ও বিধিনিষেধ এখনো রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে চীনা কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত বিনিয়োগ নিয়ে বেইজিং নিজেও কঠোর যাচাই-বাছাই করছে। বিশেষ করে অত্যাধুনিক উৎপাদন ও উচ্চপ্রযুক্তির খাতে এ নজরদারি বেশি।
এর মধ্যেও দুই দেশের বাণিজ্য বাড়ছে। চীনা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এক দশক আগে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেও বাণিজ্য প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ভারত-চীন বাণিজ্য ২৩ শতাংশ বেড়েছে। সীমান্ত ও কৌশলগত মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সূত্র: এনডিটিভি




Comments